টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু ২৭ দিন পর মারা গেছে

প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মায়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা সোলতানা আফনান (১০) মারা গেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার জসিম উদ্দীনের মেয়ে এবং লম্বাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তের ওপারে মায়ানামারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির সময় একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। প্রাথমিকভাবে তাকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হলে পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, মায়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু আফনান চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা গেছে। ঢাকা থেকে চাচা শওকত আলী তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসবেন। গ্রামেই তার দাফন কার্য সম্পন্ন হবে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু আফনানের চাচা আলী আকবর বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও আফনান বেঁচে থাকলেও তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘গুলিটি শিশুটির মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অস্ত্রোপচার করলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।’

এদিকে শিশু আফনানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুর ও জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। তারা পৃথক বক্তৃতায় গত ১১ জানুয়ারি সংঘটিত ঘটনার নিন্দা জানান এবং সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান করেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশি শিশু আফনানের মৃত্যু একটি বিয়োগান্তক ঘটনা। তার পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আফনানের পরিবারকে এর আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন সময়ে সরকারের সাহায্য ছাড়াও বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হয়েছিল। তার মরদেহ আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও খোঁজখবর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ধানমন্ডিতে জোড়া খুন, রায় রবিবার

» পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষ, ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছে ৬৫ জন

» বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে তড়িঘড়ি করে শ্রম আইন সংশোধনের অভিযোগ

» বড় গণমাধ্যমগুলোও ‘ক্লিকবেইট’ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করছে: প্রেস সচিব

» নির্বাচন: ৫৯ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

» চুক্তি বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আজ থেকে ফের আন্দোলন

সম্প্রতি