ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে শ্রমনীতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া থামানোর দাবি জানিয়েছে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। সংগঠনটি বলছে, শ্রমিক মুনাফা তহবিলের বাধ্যবাধকতা থেকে বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতকে অব্যাহতি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে শ্রম আইন সংশোধনে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শ্রমিক তহবিলের পাওনা আদায়ের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। বিচারাধীন বিষয়ে শ্রম আইনে যে কোনো প্রকার পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধ করা উচিত। এছাড়া নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
প্রসঙ্গত, শ্রম আইন অনুসারে কোম্পানিগুলোর মুনাফার ৫ শতাংশ জমা হয় ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ)। সেই ফান্ড থেকে অংশগ্রহণ তহবিলে ৮০ শতাংশ, কল্যাণ তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ১০ শতাংশ করে জমা হয়। অংশগ্রহণ তহবিলের তিন ভাগের দুই ভাগ প্রতি বছর সমহারে ভাগাভাগি করে নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর আরেক ভাগ তাদের অবসর তহবিলে জমা হয়। প্রতি অর্থবছরের ৯ মাসের মধ্যে আগের অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করার বিধান আছে শ্রম আইনে।
শ্রমিকদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে শ্রম আইন সংশোধনের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শেভরন ইউনিয়ন। তারা বলছে, ‘কিছু নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে অন্যায় সুবিধা দিতে তড়িঘড়ি করে বিধি সংশোধনের অস্বাভাবিক তৎপরতা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র। বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের নামে রাষ্ট্রের কাছ থেকে বহুবিধ অতিরিক্ত ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘২০১৩ সাল থেকে শ্রমিকের প্রাপ্য লভ্যাংশ দিচ্ছে না। ২০২২ সালে শেভরন বাংলাদেশের শ্রমিকরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। সেই রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর শ্রমিকদের পক্ষে রায় দেয় এবং রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩ মাসের মধ্যে শেভরন বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় তহবিল গঠনপূর্বক কোম্পানির নিট মুনাফার ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট শ্রম মন্ত্রণালয়কে এই রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। রায়ের বিরুদ্ধে শেভরন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি আপিল দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে ওই আপিল গত বছরের ২৮ অক্টোবর শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত পূর্ববর্তী রায়ের ওপর কোনো প্রকার স্থগিতাদেশ না দিয়ে আপিলটি নিয়মিত শুনানির জন্য পাঠায়। যেহেতু সিভিল পিটিশনটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন, সেহেতু এই পর্যায়ে শ্রম বিধিমালা সংশোধনের যে কোনো উদ্যোগ সরাসরি বিচারাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার শামিল।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সোহেল ইকবাল, সহ -সভাপতি এস এম শাহরিয়ার আবেদীন, টাল্লো বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশিদ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘শেভরন জালালাবাদ, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র এবং টাল্লোর (বর্তমানে ক্রিস এনার্জি) বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের সিংহভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের অযৌক্তিক চাপের কারণে শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’