সারাদেশে চলমান নির্বাচনী প্রচারণার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, "যেভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে তা কেবল শান্তিপূর্ণই নয়, বরং উৎসাহব্যঞ্জক। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।"
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ভোটের মাঠের চূড়ান্ত চিত্র
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত)।
•মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
•প্রার্থী সংখ্যা: ২ হাজার ২৯ জন (দলীয় ১,৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র ২৭৪ জন)।
•ভোটকেন্দ্র: ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
•পর্যবেক্ষক: ৪০০ বিদেশি ও প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক।
প্রযুক্তির বিশেষ ব্যবহার: বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপ নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ব্যাপক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে:
•বডি-ওর্ন ক্যামেরা: ৪৩ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি কেন্দ্র থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পঞ্চগড় ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে দায়িত্বরত সদস্যদের ক্যামেরা র্যান্ডমলি পরীক্ষা করে সফল সংযোগ পেয়েছেন।
•নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ: সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চালু হয়েছে এই বিশেষ অ্যাপ।
•সিসিটিভি: প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
•হটলাইন: নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষ ৩৩৩ নম্বরে কল করতে পারবেন।
৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে থাকছেন:
•সশস্ত্র বাহিনী: সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
•বিজিবি: ১ হাজার ২১০ প্লাটুনে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
•পুলিশ ও র্যাব: পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্যের মোতায়েন শুরু হবে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে।
পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া
প্রবাসে থাকা ৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যালট দেশে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে নিয়েছেন। বাংলাদেশিদের এই আধুনিক পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, নারীরা আনন্দের সঙ্গে এবং পরিবারসহ ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, "এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা। আমি আশা করি, এই নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"