ইসিতে স্মারকলিপি
‘নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ১১টি নারী সংগঠন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে ‘কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিবাদ, বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং উক্ত ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের’ দাবি জানানো হয়। সংগঠনগুলো এ বিষয়ে চারটি দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো, অবিলম্বে অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াতের আমির তাঁর ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ। এতে নারীর শ্রম, মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকার প্রতি সরাসরি অস্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে। যা সংবিধানস্বীকৃত সমতা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জামায়াত সেই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করলেও ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত বা প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্টো ‘হ্যাকিং’-সংক্রান্ত মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হয়েছে। যা পুরো দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত নারীরা যুগ যুগ ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন। তাদের অবদান অবমূল্যায়ন করে এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়। কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর ইসির সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান করে কেউ যেন রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সেই বার্তাই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা সাংবাদিকদেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় নারীর ওপর হামলা ও হয়রানির ইতিহাস রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি, যেন নারী-পুরুষ সবাই নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।’
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের নারীবিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্যের কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা প্রমুখ।
আন্তর্জাতিক: সুদানে ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের ২৪ জন নিহত