শেষ হলো প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। এখন ভোটের দিন গণনার অপেক্ষায় গোটা দেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো যাবে না। ইসি জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসির দাবি, এবারের নির্বাচনী পরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। বড় ধরনের সহিংসতা বা সংঘাতের ঘটনা কম ঘটেছে। মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আমরা সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছি। অতীতের সব নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ ভালো।’
ইসি তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। যারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ করবেন।
অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সাড়ে ৮২ ঘণ্টার জন্য বহিরাগতদের নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট নেওয়া হবে। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। সারাদেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র এবং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ইসিতে অভিযোগের স্তূপ
প্রচারণার শেষ পর্যায়েও ইসিতে অভিযোগ জমা পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা সিইসির সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সমান সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকটি দল অভিযোগ করেছে, তাদের প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলা করেছেন। এসব ঘটনায় মোট জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রচারণা শেষ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত, এখন দেশজুড়ে একটাই প্রশ্ন, ভোটের দিনে কেমন হয় জনতার রায়।