বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ, বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে টানা ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। আগামীকাল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে ভোট দিতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী থেকে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ।
সরকারি ছুটির পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে লাখো মানুষ গ্রামমুখী ছুটে চলায় ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখী মানুষজন। মঙ্গলবার,(১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকাল থেকেই ওইসব সড়কে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন।
১২ ফেব্রুয়ারি (আগামীকাল) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দু’দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। পরে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তা, টঙ্গী, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায় ।
পোশাকশ্রমিক পারুল আক্তার বলেন, ভোটের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। বাসস্ট্যান্ডে অনেক ভিড়, ভাড়াও বেশি। তারপরও কষ্ট করে ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি।
শ্রীপুরের মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা এলাকায় মাঝেমধ্যে যানজট তৈরি হচ্ছে। যানবাহন ধীরে ধীরে চলছে।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত লম্বা ছুটিতে মহাসড়কে শত শত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার অনেকেই নির্বাচনী দায়িত্বে থাকায় পুলিশ কম। এরপরও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকেই অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। গাজীপুর ও সাভারের মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সুযোগে বাসশ্রমিকরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। অনেক স্থানে যানবাহনের ধীরগতি ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা। তাদের অভিযোগ, ৩০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা হাঁকাচ্ছেন বাস কাউন্টারের শ্রমিকরা।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, একসঙ্গে অনেক কারখানায় ছুটি হওয়ায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বাসের সংখ্যা কম থাকা এবং যাত্রীরা সড়কের ওপর অবস্থান নেয়ায় যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামমুখী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। ভোট দেয়ার উৎসাহ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য পথে পথে নানাবিধ ভোগান্তি মাথায় নিয়েই গ্রামের পথে ছুটছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সদরঘাটে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জগামী পন্টুনগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়তে শুরু করে। রাত পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ থাকবে বলে জানান বন্দরের কর্মীরা।
সদরঘাট এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে তীব্র জট দেখা গেছে। যাত্রীদের ঘাটে আসতে গণপরিবহন থেকে নামতে হয়, প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রায়সাহেব বাজার মোড়ে। আবার এই সড়কে অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ থাকায় যাত্রীদের পায়ে হেঁটেই ঘাট পর্যন্ত আসতে হচ্ছে। সড়কের দু’পাশে ফুটপাতে হকার ও অস্থায়ী দোকানপাট বসেছে। এর ফলে মালামাল ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষজনকে।
খিলগাঁও থেকে সপরিবারে বরিশাল যেতে সদরঘাটে পৌঁছান আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ভোট দেয়া নাগরিক দায়িত্ব, তাই বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু সদরঘাটের সংযোগ সড়কগুলোর বিশৃঙ্খলা দূর হয়নি। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কোনোদিনও শেষ হবে না? ভোট দিতে ভোগান্তি পোহাতে হবে কেন?
রামপুরা থেকে আসা পোশাকশ্রমিক রাহেলা খাতুন বলেন, বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না, ভাড়াও বেশি। এজন্য লঞ্চে যেতে চাচ্ছি। লম্বা ছুটির উছিলায় একটু বাড়ি যাওয়া। লঞ্চেও পা ফেলার জায়গা নেই। অনেক চেষ্টা করে ডেক-এ জায়গা পেয়েছি। ভোট দেয়ার উৎসব পালনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবো, এতেই আনন্দ।
লঞ্চ মালিক সমিতি কার্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ বড়াই সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া কয়েকজন প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার যাত্রীদের জন্য বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য কিছু রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।