image
নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার -সংবাদ

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইজিপি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, এখনও সেই শঙ্কা ‘উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না’। মঙ্গলবার,(১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছিলেন বাহারুল আলম।

৮০-৯০ শতাংশ কেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে

এবার ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটা কেরানীগঞ্জের ঘটনা (মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ) থেকে, তবে এ মুহূর্তে তীব্র আশঙ্কা কোনো বোধ করছি না, আবার উড়িয়েও দিচ্ছি না। হামলার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’ নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান আশঙ্কা ছিল প্রচার অভিযানের সময়, ক্যাম্পেইনে যারা ইলেকশনবিরোধী- তারা মনে করে, ওদের ভাষায় তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসিটা তাদের মতবাদের সঙ্গে মেলে না। তাদের ধর্মভিত্তিক মনোনয়ন হবে।

‘এগুলোর তারা বিরোধী। মঙ্গলবার নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে, কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন অবশ্য আশ্বস্ত হতে পারি জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আর ওভাবে নেই।’

নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, ৮০-৯০ শতাংশ কেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা, প্রার্থীদের অবস্থান, ভোটারদের মনোভাব, আধিপত্য এসব বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে এবার ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ‘মাঝারি ঝুঁকিতে’ রয়েছে ১৬ হাজার কেন্দ্র।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র লুট হওয়ার পাশাপাশি থানায় জমা থাকা ব্যক্তিগত লাইসেন্সধারী প্রায় এক হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। ‘যে কোনো অবৈধ অস্ত্রই হুমকি। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। এসব মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। আইজিপি বলেন, ‘অনেকে হয়তো দেশে নেই, কিন্তু অস্ত্র লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম।’

তিনি বলেন, ভোট যেন ‘শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ হয়, সেজন্য ‘সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেয়া হয়েছে। এবার নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য, এক লাখ সেনা সদস্য, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন থাকবে বলে জানান বাহারুল আলম।

তিনি বলেন, ?তফসিল ঘোষণার পর ৩১৭টি নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা ‘রাজনৈতিক’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে।’

আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স।’

সম্প্রতি ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন ‘শুটারের’ তালিকা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, ‘এই তালিকাটি কার, সেটা আমি নিশ্চিত নই। সংখ্যা ৩ হাজার বেশি বা কম হতে পারে। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই। ‘কোথাও বিচ্ছিন্ন অপরাধ, ডাকাতি বা হত্যাকা- ঘটতে পারে, কিন্তু তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো শক্তি এখন নেই।’

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি