বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
কর্মস্থলে যোগদান না করলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, ব্যত্যয় হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ব্যাখা দিতে হবে
দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় সেবাদানের মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং জনস্বার্থ রক্ষিত হবে বলে দাবি
নীতিমালার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, একক মানদ-, স্বচ্ছতা ও নীতিমালা না থাকায় চিকিৎসকদের কর্মোদ্দীপনা ক্ষুণ্য হচ্ছে।
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, জনস্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের সহজাত ক্ষমতার আলোকে এ অবস্থা হতে উত্তরণে পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক।
দেশের সব অঞ্চলের নাগরিকদের নিরবিচ্ছন্ন, মানসম্মত ও ন্যায়সংগত, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দরকার সন্তুষ্ট, কর্মদৃপ্ত এবং উজ্জীবিত চিকিৎসক।
সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য চিকিৎসকদের মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মস্থলভিত্তিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া দরকার। তাই পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও ন্যায্যতাভিত্তিক করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রণয়ণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলির জন্য যৌক্তিক, অভিন্ন ও ম্যাটিক্সনির্ভর মূল্যায়ন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে একটি অটোমেশনভিত্তিক পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশে এ নীতিমালা প্রণয়ণ করা হলো।
এই নীতিমালা অনুসৃত হলে, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় সেবাদানের মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং জনস্বার্থ রক্ষিত হবে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর উদ্দেশ্য ও চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্বাস্থ্যখাতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও কর্মপ্রণোদনামূলক করার লক্ষ্যে ‘বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ণ করা হলো।
শিরনাম ও প্রয়োগ: এ নীতিমালা ‘বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকদের পদায়ন বদলি নীতিমালা ২০২৬ হিসেবে অভিহিত হবে।
সংজ্ঞা: সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এ উল্লেখ সংজ্ঞা এবং বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধিমালা এবং অন্যান্য বিধানে উল্লিখিত সংজ্ঞা এ নীতিমালার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এছাড়াও ক্ষেত্রমতে অন্যান্য সংজ্ঞা সমূহ প্রযোজ্য হবে।
যেমন: ম্যাটিক্স- ম্যাটিক্স বলতে চিকিৎসকগদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা, চাকরিকাল, উচ্চতর ডিগিী, সেবা দেয়ার পর্যায় ও ভৌগলিক অবস্থান এবং কর্মস্থলভিত্তিক অবদানের সমন্বিত মূল্যায়নের জন্য নম্বরভিত্তিক প্রণীত পরিমাপযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামোকে বোঝায়।
অটোমেশন: অটোমেশন বলতে চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্দেশে ব্যবহ্নত সফটওয়্যার নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে বোঝায়।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যাটিক্স অনুযায়ীপ্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে পছন্দের কর্মস্থলে প্রাপ্যতা নির্ধারণ হবে এবং তদানুযায়ী পদায়ন ও বদলি করা হবে।
এসব পদায়ন ও বদলির মধ্যে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নব নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের তাদের বিসিএস পরীক্ষার সুপারিশের মেধাক্রম ও পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রাপ্য পছন্দের কর্মস্থলে অটোমেশন পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে পদায়ন করা হবে।
এভাবে প্রভাষক, ডেপুটি সিভিল সার্জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট, সহকারী অধ্যাপক, সিভিল সার্জন পদ, সহকারী পরিচালকের পদ, সিনিয়র কনসালটেন্টের পদ, উপ-পরিচালকের পদ, সহযোগী অধ্যাপকের পদ ও অধ্যাপকের পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পদায়ন ও বদলি করা হবে।
ব্যতিক্রম: মহাপরিচালকের পদ পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি দরকার অনুযায়ী সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত পদায়নের নিমিত্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবেন। এভাবে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক,অধ্যক্ষ, পরিচালক ও উপ-পরিচালক,সহকারি পরিচালক ও সিভিল সার্জন পদায়নে মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংশোধিত কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সাক্ষাৎ গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত পদায়ন নির্ধারণ করতে পারবে।
পদায়ন ও বদলির আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পদায়ন বা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে সংশিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত বিধান প্রযোজ্য হবে।
নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে পদায়ন বা বদলিকৃত চিকিৎসকের অবমুক্তি এবং যোগদান (মুভ ইন/মুভ আউট) নিশ্চিত করবেন। এর ব্যত্যয় হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নতুন নীতিমালার প্রণয়নের অনুলিপি ইতোমধ্যে সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যাসেলর,ডিজি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ ৩২ জনের কাজে অনুলিপি অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য সারাদেশে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। আবার অনেকেই রাজনৈতিকসহ নানা কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছে। আবার অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে অরাজনৈতিক ডাক্তারদের বদলিও করে দিতেন। এমনকি মেধাবী অনেকেই রাজনৈতিক হয়রানির শিকারের ভয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নীতিমালার ফলে চিকিৎসকদের হয়রানি কিছুটা হলেও কমবে বলে চিকিৎসকরা আশাবাদী।
অর্থ-বাণিজ্য: নিজেকে ১শ’র মধ্যে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
অপরাধ ও দুর্নীতি: দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের সামান্য উন্নতি: টিআইবি