২৫ হাজারেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা

বাকী বিল্লাহ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭শ’ ৮০টি । আর কম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি। বেশি ঝুঁকি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ মিলিয়ে সারাদেশে মোট ২৫ হাজার ৩২৮টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

মোতায়েন থাকছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশসহ ৯ লাখের বেশি নিরাপত্তা ফোর্স

পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কট্রোল রুম চালু

জরুরি দরকার হলে ৯৯৯ বা ০১৩২০০০১২২৩, ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ

ফায়ার সার্ভিসের সবার ছুটি বাতিল, সাড়ে ১৩ হাজার সদস্য সতর্ক ডিউটিতে আছেন

আর সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪শ’ ৩৩টি। ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সারাদেশে মোট ভোটকক্ষ হলো ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। এসব ভোট কক্ষে প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার ভোট দিবেন।

পুলিশ সদর দপ্তর বুধবার, (১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) জানিয়েছে, নির্বাচন চলাকালে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জরুরি খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অপারেশনস কন্ট্রোল রুম বুধবার থেকে চালু করা হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমে তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো- ০১৩২০০০১২২৩, ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ভোটকেন্দ্রের সংঘটিত সংঘাতসহ যে কোনো খোঁজ-খবর সারাদেশ থেকে জানানো যাবে। তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশ সহযোগিতায় এগিয়ে যাবেন।

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/11Feb26/news/Untitled-1.gif

এছাড়াও সারাদেশের প্রতিটি জেলা, প্রতিটি বিভাগে রেঞ্জ অফিস ও মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিসে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে কন্ট্রোল রুমগুলো তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া শাখা জানিয়েছে, নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে যে কোনো নাশকতা বা আগুনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে রাজধানীসহ সারাদেশে ফায়ার সার্ভিসের টিম সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। খবর পেলেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাবেন। এজন্য ফায়ার সার্ভিসের সব স্টেশনের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে তারা দায়িত্ব পালন ও নির্বাচনী এলাকায় সতর্ক ডিউটি করছেন।

সারাদেশের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তায় মোট বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/11Feb26/news/Untitled-1%20%281%29.gif

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে একজন ওসি বলেন, আগের তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটকেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সব ভোটকেন্দ্রে অনলাইন ক্যামরা, সিসি ক্যামরা থাকবে। নিরাপত্তা ফোর্স বেশি থাকবে। তার মধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

বর্ডার গার্ড বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিজিবির ৩৭ হাজার ৪শ’ ৫৩ জন টহল দিচ্ছেন। দুর্গম অঞ্চলের জরুরি দরকারে বিজিবির ২টি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছে যাবে বিজিবির হেলিকপ্টার।

পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে (ঝুঁকিপূর্ণ) বেশি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে (গুরুত্বপূর্ণ) ৩ জন পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ছাড়াও বিজিবি-সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশের এক ডিআইজি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। এছাড়াও বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা টহল দেবে।

সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। উপকূলীয় ভোটকেন্দ্রে কোস্টগার্ড, যৌথবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পানছড়ির দুর্গম ভোটকেন্দ্রসহ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বাড়তি নিরাপত্তা ফোর্স মোতায়েন করা হবে। বডিওর্ন ক্যামেরা, বিজিবির চেকপোস্টসহ নানা তৎপরতা থাকবে।

সারাদেশে উপকূলীয় ৬টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আর সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে তা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচনী নিরাপত্তা, আচরণবিধি ও নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণে প্রতিপাদ্য হলো- থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিব নিরাপদে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় এই প্রথমবারের মতো পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের গাইডলাইন থেকে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা ও আন্তঃসংস্থা বা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রয়োগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা কেমন হবে তাও প্রশিক্ষণে শেখানো হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য: গোপন বা সরাসরিভাবে সংগৃহীত তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য যেমনÑ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, গুজব ছড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার সম্ভাবনা আছে এমন এলাকা বা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, জনগণের মনোভাব, ক্ষোভ, ছাত্র-তরুণদের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা।

নির্বাচনী অনিয়ম, ভোটকেন্দ্রে কারচুপি, অর্থ বিতরণ, প্রার্থীদের সম্পর্কে জানা, নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসী হামলা, অস্ত্র, বিস্ফোরকের উপস্থিতি, কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ সংক্রান্তে বাধা দিতে পারে এরকম আশঙ্কার তথ্য আগাম সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেয়া।

নির্বাচনী কর্মতৎপরতার আলোকে জেলাভিত্তিক, গোয়েন্দা ঝুঁকি বিশ্লেষণের নমুনা, পেশিশক্তির প্রদর্শনী, প্রার্থীদের নিজস্ব বাহিনী তৈরি, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হুমকি, নদীতীরবর্তী অঞ্চল ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপট, সীমানা পরিবর্তনসহ নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণের ধরন, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য সংঘর্ষের সময় উচ্চঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।

আচরণ ও দ-: রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য কর্মকর্তা বা পুলিশের কোনো সদস্য যদি নির্বাচন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা বা ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালে কোনো ব্যক্তিকে তার ভোট দেয়ায় প্ররোচিত করে, তার ভোট দেয়ায় প্রভাবিত করে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য অন্য কোনো কার্য করেন, তা দ-নীয় অপরাধ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে সাধারণত নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে সমক্য জ্ঞান অর্জন, নির্বাচনী আচরণবিধি ও কমিশনের জারিকৃত পরিপত্র ও নির্দেশনা জানা। যুগোপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার জানা। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা বৃদ্ধি করা।

প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ করে বডিওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নীতিমালা সম্পর্কিত সম্যক ধারণা অর্জন। বডিওর্ন ক্যামরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক অনুশীলন। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালাসহ নানা ধরনের নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আচরণ বিধির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এই বছর জাতীয় নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশন ও গাইডলাইন অনুযায়ী পুলিশ কাজ শুরু করেছেন। পেশাদারিত্বের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশের একজন ডিআইজি বলেন, সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। সবার সহযোগিতা পেলে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে। শতভাগ নিরাপদ করার চেষ্টা করছি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি