এবারের নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৮২৪টি। এরমধ্যে ৩০২টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যা মোট কেন্দ্রের ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এরমধ্যে ৭১টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এবারের নির্বাচনে যশোরের আটটি উপজেলা এলাকায় ৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসন থেকে বিএনপি ও জামায়াত মিলিয়ে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এদের মধ্যে জাতীয়পার্টি ও বামদল মিলিয়ে অন্যান্য প্রার্থীরাও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। আজ জেলার মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এসব ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ জন, পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন।
এদিকে, জেলার ৬টি আসনের ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন ১৪ হাজার ৬২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে পুলিশ, আনসার, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৬৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান টিমের দায়িত্ব পালন করবেন।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে। সেখানে ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে শার্শা উপজেলায় ৬৯টির মধ্যে ৩৫টি এবং বেনাপোলে ৩৩টির মধ্যে ১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। চৌগাছায় ৮১টির মধ্যে ২৩টি এবং ঝিকরগাছায় ৯৪টির মধ্যে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া) আসনে ১৪৮টির মধ্যে ৪২টি এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১টির মধ্যে ২১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পাশের কেন্দ্র এবং অতীতে যেখানে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে এসব বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেও কয়েকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
আবুল বাশার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনলাইন সিসিটিভি ও বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সাধারণত চারটি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ দুটি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম রাখা হবে। সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও নিজস্ব প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।
যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ প্রত্যাশা করেন। তবে কেউ কেন্দ্র দখল বা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যা আগামীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ নেই। জেলার সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, জেলার ৮টি উপজেলার ৮২৪টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা এখন তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য তারা জেলার সব কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা তাদের নজরে আসেনি। তারা নির্বাচনী নিরাপত্তার শতভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
নগর-মহানগর: ফাঁকা ঢাকা, নেই চিরচেনা যানজট-কর্মচঞ্চলতা