উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এখন চলছে ভোট গণনার প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া।
নির্বাচন কমিশন জানায়, বিকেল ৪টার মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে তারপর গণনা শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স সিলগালা ও গণনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। টানা ৯ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হয়। তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
কীভাবে হবে গণনা: ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ শেষে প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর আলাদা টেবিলে ভাগ হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণনা শুরু করবেন। ফলাফল কেন্দ্রভিত্তিকভাবে প্রস্তুত করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।
ভোটার ও প্রার্থীর হিসাব: নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন—যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় ও ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ৯৪৬ জন। নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তবে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি: সারাদেশে ভোট চলাকালে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। খুলনার ভৈরবে বিএনপির এক নেতা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। কোথাও কোথাও কেন্দ্র দখল বা জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। কিছু এলাকায় হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন। তবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়নি।
অবশ্য কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিশাল প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি: ভোট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্য মোতায়েন ছিলেন। বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
উৎসবের আবহে শেষ হওয়া এই ভোট এখন পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে, গণনার ফলেই নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র। এখন সবার দৃষ্টি গণনার ফলাফল ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।
সারাদেশ: রাজশাহীতে বিজিবির অভিজানে ইয়াবা জব্দ
অর্থ-বাণিজ্য: বাজারে আইটেলের নতুন স্মার্টফোন সিটি ২০০