ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা শেষে এখন সবার দৃষ্টি নতুন সরকার গঠনের দিকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। নির্বাচনী ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলটি এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৩০০ আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ১৫১টি আসন প্রয়োজন হলেও বিএনপি ইতিমধ্যেই দুই শতাধিক আসনে জয় নিশ্চিত করে নিরঙ্কুশ অবস্থানে রয়েছে।
সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। সংসদ সদস্যদের এই শপথের পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন এবং এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন সরকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ২১২টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরাও বেশ কিছু আসনে জয়লাভ করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবেন। এরপর নির্বাচিত দলনেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বিএনপির সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো নিয়ে কিছুটা আইনি জটিলতা বা ধোঁয়াশা থাকলেও তার সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার। গত ৫ আগস্টের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে কে শপথ পড়াবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি অথবা প্রধান বিচারপতির কাছে এমপিরা শপথ নিতে পারেন। এছাড়া সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও শপথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে নতুন সরকারের সদস্যদের জন্য পরিবহন পুল থেকে গাড়ি প্রস্তুত রাখা এবং বঙ্গভবনে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে জানা গেছে।
নগর-মহানগর: গাজীপুর-৩ আসনে জয়ী বিএনপির রফিকুল ইসলাম বাচ্চু