গণভোট: ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অধিকাংশ ভোটার সম্মতি দিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আয়োজিত এই গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৬৮ শতাংশের বেশি। সনদ বাস্তবায়নের বিপক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩২ শতাংশ ভোটার।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান। গণভোটে অংশ নিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন। অর্থ্যাৎ ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮.০৬%)। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন (৩১.৯৪%)। শুক্রবার, (১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব এ তথ্য জানান।

সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯%

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান, বৃহস্পতিবার (গতকাল) ২৯৯টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুই আসনের ফলাফল পরে দেয়া হবে। সংসদ নির্বাচনের যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গণভোট

গণভোটের গোলাপি ব্যালটে মোটদাগে চারটি প্রশ্ন ছিল। এরমধ্যে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে ইস্যু রয়েছে। এ সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মোট ৮৪ দফা রয়েছে, সংবিধানসংক্রান্ত বিষয় বাদে বাকিগুলোকে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর আগে দেশে তিনবার গণভোট হলেও এবারই প্রথম এই নির্বাচন হয়েছে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে।

জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য একটি ব্যালটের বাইরে গণভোটের জন্য একটি অতিরিক্ত ব্যালট পেপার দেয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল: ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন’

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।’

এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন।

বিগত ৩টি গণভোট

এর আগে দেশে তিনবার গণভোট হয়েছে। প্রথম গণভোট হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে। ওই ভোটে প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আস্থা আছে কিনা ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছিল সে সময়।

দ্বিতীয়বার গণভোট হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আস্থা এবং স্থগিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত তার রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকার বিষয়ে সম্মতি আছে কিনা সে সময় ৯৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৬ শতাংশের মতো ‘না’ ভোট পড়েছিল।

তৃতীয় গণভোট হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। দেশে কোনো ধরনের সরকার পদ্ধতি চলবে- সংসদীয় নাকি রাষ্ট্রপতি শাসিত; এ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনি নিয়ে আয়োজিত ওই গণভোটে প্রশ্ন ছিল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল, ১৯৯১-এ রাষ্ট্রতির সম্মতি দেয়া উচিত কিনা তৃতীয় গণভোটে ৮৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১৬ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছিল।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» আইনি ভিত্তি পেলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করবো: গোলাম পরওয়ার

» ৬৮.০৫ শতাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ, আসবে কী কী বদল

» গোপালগঞ্জে ‘না’ ভোট জয়ী

» ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শক্তিশালী হবে’

» আমন্ত্রণ পেলেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি ভারত: জয়সওয়াল

» ব্যাপক বিজয়ের পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালো বিভিন্ন দেশ

» নিরঙ্কুশ জয়ে সরকারে বিএনপি, ‘আশাহত’ জামায়াত বিরোধীদলে

সম্প্রতি