ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে অপেক্ষা নতুন সরকারের অভিষেকের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার (১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিতে পারেন।
শপথ পড়াবেন কে?
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকারের। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে জনসমক্ষে নেই। অন্যদিকে, তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
গেজেট ও প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সব ফলাফল হাতে পাওয়ামাত্রই গেজেট প্রকাশ করা হবে। আজ শনিবারের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য তিন-চার দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ফলাফল একনজরে
ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দেখা গেছে:
•বিএনপি: ২০৯টি আসন (একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা)
•বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন
•বিএনপি জোটের শরিকরা: ৩টি আসন
•জামায়াতের জোটসঙ্গীরা: ৯টি আসন
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক ঐকমত্য
বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের শপথ গ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি সূক্ষ্মতা থাকলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন—একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের মধ্য দিয়েই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সমাধান করা হবে। যদি রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব দ্রুত আসে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেও শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, যেদিন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, ওই দিনই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল শেষ হয়ে দেশে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হবে।
সারাদেশ: রাজধানীতে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত