১৪ ফেব্রুয়ারি: স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

বসন্তের রঙে মেশা এক রক্তাক্ত প্রতিরোধের ইতিহাস

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা দিবস হিসেবে সমাদৃত হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি "স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস" হিসেবে এক গভীর ও সংবেদনশীল জায়গা দখল করে আছে।

আজ থেকে ঠিক ৪৩ বছর আগে, ১৯৮৩ সালের এই বসন্তের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে শিক্ষা ভবনের মোড় পর্যন্ত রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল ছাত্রসমাজের রক্তে। তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা সেই ছাত্র আন্দোলন আজ একুশ শতকের বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে টিকে আছে।

বসন্তের প্রথম প্রহরে যখন ফুলের গন্ধে বাতাস মাতোয়ারা, তখনই জাতি পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন ও দীপালীর মতো বীরদের, যারা সেদিন বুক পেতে দিয়েছিলেন পুলিশের রাইফেলের নলের সামনে।

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/14Feb26/news/Screenshot_20260214-152049.jpg

১৯৮২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান একটি বিতর্কিত শিক্ষানীতি প্রস্তাব করেছিলেন। যেখানে উচ্চশিক্ষাকে ধনীদের বিলাসিতায় পরিণত করার এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল। ছাত্রসমাজ শুরু থেকেই এই নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সচিবালয় অভিমুখে শান্তিপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

মিছিলটি কার্জন হল পেরিয়ে শিক্ষা ভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই লাঠিচার্জ ও নির্বিচারে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই শিমুল-পলাশ ফোটা চত্বরটি পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন জয়নাল ও দীপালীসহ ১০ জন বিপ্লবী তরুণ, আর নিখোঁজ হন আরও অনেকে।

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/14Feb26/news/Screenshot_20260214-153233.jpg

​ছাত্রদের সেই আত্মদান বৃথা যায়নি; সেই দিনের সেই উত্তাল আন্দোলনই কালক্রমে রূপ নিয়েছিল নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী সর্বাত্মক গণ-আন্দোলনে, যার সমাপ্তি ঘটেছিল সামরিক শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে।

দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনটি কিছুটা ম্লান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের কাছে "স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস" তার গৌরব ফিরে পেয়েছে। কেবল ভালোবাসা বা বসন্ত উদযাপনের মধ্যেই এই দিনটি সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ আর অধিকার আদায়ের এক অবিনাশী স্মারক। আজকের এই দিনটি প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই শিক্ষাই দেয় যে, যেকোনো অন‌্যা‌য়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিরোধই সুন্দর আগামীর চাবিকাঠি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» আইনি ভিত্তি পেলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করবো: গোলাম পরওয়ার

» ৬৮.০৫ শতাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ, আসবে কী কী বদল

» গোপালগঞ্জে ‘না’ ভোট জয়ী

» ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শক্তিশালী হবে’

সম্প্রতি