সকালে এখানেই এমপিরা শপথ নেবেন
রীতি অনুযায়ী, বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হওয়ার কথা থাকলেও এবার এই শপথ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। রোববার, (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ আগামীকাল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি)। এরপর বিএনপির এমপিরা তাদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবেন। এদিন বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার’। আর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এরমধ্য দিয়ে গঠিত হবে নতুন সরকার।
আইন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি। এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই সনদ ঘিরে যে অনুষ্ঠান, সেটাও এখানে আয়োজন করা হয়েছে। এ সংসদের পাশেই বেগম খালেদা জিয়া এবং সবার প্রিয় আমাদের ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে ডকুমেন্টেশন, সেটা প্রকাশের একটি জায়গা হিসেবেও দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (আগামীকাল) সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। আমি ধারণা করছি, খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ দিবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবেন। এছাড়া বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। আমার জানা মতে এটা রাষ্ট্রপতি করবেন।’
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কাকে কাকে আমন্ত্রণ করা হয়ে সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার জানা মতে, এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। সেখানের মন্ত্রীদের দাওয়াত দেয়া হয়েছে।’
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট জারি করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বিএনপির এক সময়য়ের মিত্র জামায়াত ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
এ নির্বাচনে বিএনপির মিত্রদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পাটি-বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পেয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে।
জামায়াত জোট ছেড়ে আসা চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন।
এবারের নির্বাচনে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তারা সবাই বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। বিদ্রোহী হওয়ার কারণে এদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পেয়েছে বিএনপি। জামায়াত পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট।
শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরদিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর থেকে সংসদ না থাকলেও সংসদ ভবনকে কেন্দ্র করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের কার্যালয় করেছিল সংসদ ভবন এলাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কার্যালয় সেখানে করা হয়েছিল।
এরপর নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কার্যালয়ও স্থানান্তর করা হয় সংসদ ভবন এলাকায়। সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিশনের কার্যালয়ও ছিল এই এলাকায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ওই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়।