ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ভোট পেয়েছে প্রায় পৌনে চার কোটি; যা আসনগুলোতে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করে ২৯০ জন এ ভোট পেয়েছেন। ইতোমধ্যে দলটি ২০৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
জামায়াত ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে সোয়া দুই কোটির বেশি ভোট, যা ২৯৭ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৬৮টি আসন পেয়ে এ যাবৎ ভোট ও আসনের রেকর্ড গড়েছে দলটি। জামায়াতের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এর তিন দিন পর রোববার, (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ভোটের হিসাব প্রকাশ করা হয়।
ভোটের হারে তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে এনসিপি। আসন পেয়েছে ৬টি।
গত তিনটি সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট। দলটি একটি আসনও পায়নি।
এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। হাতপাখা প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। দলটি একটি আসন পেয়েছে।
১১-দলীয় ঐক্যে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের হার
জাতীয় নির্বাচনের পরদিন গত শুক্রবার দলভিত্তিক ফল ও ভোটের হার তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ (২৯৭ আসনে)। আর গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনে)। ৫০টি দল ভোটে অংশ নিলেও ২৯৭ আসনে মাত্র ৭টি দল জয় পেয়েছে।
এই নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। এ হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত ৫০ মহিলা আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি, আর স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন।
দ্বিকক্ষ হলে উচ্চকক্ষ গঠন কীভাবে
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেয়েছে। জুলাই সনদে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। সেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
পিআর পদ্ধতিতে আসন বণ্টনে ২৪টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও বিএনপিসহ ৭টি রাজনৈতিক দল ও জোটের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত আছে।
তারা বলেছেন, নি¤œকক্ষের ভোটের ভিত্তিতে নয়, উচ্চকক্ষ গঠন হবে সংসদ নির্বাচনের আসনের অনুপাতে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এ মুহূর্তে উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই বলেও ‘নোট অব ডিসেন্টে’ বলা হয়েছে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। তবে কোনো কারণে নি¤œকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
*কোন দল কত ভোট পেল*
ইসির নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ১৩ প্রার্থীর (ছাতা) ০.৩৫%; বাইসাইকেল প্রতীকে জাতীয় পার্টির (জেপি) ১০ জন ০.০৪%; বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৬৫ জন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ০.০৮%; ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির ২৯০ জন পেয়েছেন ৪৯.৯৭%; গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন (কবুতর) ০.০০%; জাতীয় পার্টির ১৯৯ জন লাঙ্গল প্রতীকে ০.৮৯%; বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ২২৮ জন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১.৭৬%; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ২৮ জন ০.০৪%; জাকের পার্টির ৫ জন গোলাপ প্রতীকে ০.০২%; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৫ জন মই প্রতীকে ০.০৫%; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ২ জন গরুর গাড়ির প্রতীকে ০.১৪%; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৮ জন বটগাছ প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৬ জন হারিকেন প্রতীকে ০.০১%; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ২২ জন আম প্রতীকে ০.০১%।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশেল ৪ জন খেজুর গাছ প্রতীকে ০.৪৭%; গণফোরামের ২০ জন উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ০.০১%; গণফ্রন্টের ৫ জন মাছ প্রতীকে ০.০০%; বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ১ জন গাভী প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৬ জন কাঁঠাল প্রতীকে ০.০০%; ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২০ জন চেয়ার প্রতীকে ০.০৮%; বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ২ জন হাতঘড়ি প্রতীকে ০.০০%; ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন মিনার প্রতীকে ০.০০%; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন রিকশা প্রতীকে ২.০৯%; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন হাতপাখা প্রতীকে ২.৭০%; বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২৫ জন মোমবাতি প্রতীকে ০.৪৫%; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ১ জন চশমা প্রতীকে ০.০০%; বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জন কোদাল প্রতীকে ০.০৪%; খেলাফত মজলিসের ২০ জন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ০.৭৬%; বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) ৪ জন হাত পাঞ্জা প্রতীকে ০.০০%; বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) ২০ জন ছড়ি প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) ৮ জন টেলিভিশন প্রতীকে ০.০০%; জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) ৮ জন সিংহ প্রতীকে ০.০০%; বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৮ জন ডাব প্রতীকে ০.০১%; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ৪২ জন আপেল প্রতীকে ০.০৩%; বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) ১৫ জন মোটরযান প্রতীকে ০.০২%।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ১৮ জন একতারা প্রতীকে ০.০৪%; আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ৩০ জন ঈগল প্রতীকে ০.২৮%; গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৯৪ জন ট্রাক প্রতীকে ০.৩৩%; নাগরিক ঐক্যের ১১ জন কেটলি প্রতীকে ০.০১%; গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন মাথাল প্রতীকে ০.১৪%; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ জন ফুলকপি প্রতীকে ০.১৭%; বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) ৮ জন রকেট প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১৭ জন আনারস প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১৪ জন হাতি প্রতীকে ০.০২%; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন শাপলা কলি প্রতীকে ৩.০৫%; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) ৩২ জন কাঁচি প্রতীকে ০.০২%।
জনতার দলের ২০ জন কলম প্রতীকে ০.০৫%; আমজনতার দলের ১৫ জন প্রজাপতি প্রতীকে ০.০১%; বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির (বিইপি) ১ জন দোয়াত কলম প্রতীকে ০.০০% এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৩ জন বই প্রতীকে ০.০৪% ভোট পেয়েছেন।