টিআইবির তথ্য
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নবনির্বাচিত এমপিদের ঘোষিত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায়।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত সংসদগুলোর তুলনায় বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যানে বলা হয়, নবম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের মোট দায়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। দশম সংসদে তা বেড়ে ৩ হাজার ৬২৪ কোটি এবং একাদশ সংসদে ৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। দ্বাদশ সংসদে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, যা সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদে এসে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে ঋণ বা দায়ের মুখে রয়েছেন।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ সদস্য ঋণগ্রস্ত। তবে সামগ্রিকভাবে দায়গ্রস্ত সংসদ সদস্যের হার গত সংসদগুলোর তুলনায় কিছুটা কমে বর্তমানে ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে সংসদ সদস্যদের আয়ের চিত্রও ফুটে উঠেছে। টিআইবি জানায়, নির্বাচিত সদস্যদের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার ওপরে। এর মধ্যে ৪৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকারও বেশি।
আর্থিক তথ্যের পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্রটিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। টিআইবি বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে বিধি ভঙ্গ করেছেন। এর মধ্যে মিছিল, মশাল মিছিল, শো-ডাউন এবং নির্ধারিত সংখ্যার অধিক সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রচার সামগ্রী নষ্ট করার মতো অভিযোগও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় সকল বড় দলের প্রার্থীদের মধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই প্রবণতা দেখা গেছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।