প্রথম আলো ধ্বংসস্তূপ
উগ্রবাদীদের হামলার শিকার দৈনিক প্রথম আলোর ধ্বংসস্তূপ ভবনে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন চলছে। ‘আলো’ নামের এই শিল্পকর্ম করেছেন বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান। যেখান থেকে ‘নতুন প্রাণশক্তি উত্থানের’ বার্তা দেওয়া হয়েছে।গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বসন্তের সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে। সেদিন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
“গত বুধবার ১৮ ই ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর দগ্ধ ভবনে শিল্প প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম। অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদ পত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোন যদি, বা কিন্তু নাই।
প্রথম আলো আক্রান্ত হয়েছে এটা দুঃখজনক হলেও এ ধরণের ঘটনা বিরল নয়। স্মর্তব্য, উগ্রপন্থীদের হাতে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু সংবাদপত্রটি রক্ষায় আইন শৃংখলা বাহিনীর ব্যর্থতা অমার্জনীয়।
আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপ করে এ থেকে নিস্তার পাওয়া যাবেনা।
আমাদের সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর চিন্তা হলো, “কেবল আমিই ঠিক এবং অন্যরা আমাদের প্রতিপক্ষ।” এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শুরু করতে হবে সংলাপ সব বিরুদ্ধবাদীদের সাথে। তাদের অভিযোগ শুনতে ও বুঝতে হবে।
অভিযোগ আছে, আমাদের দেশে “ইসলামপন্থীদের/উগ্রবাদীদের” উপর অমার্জনীয় নৃশংসতা চালানো হয়েছে। অভিযোগ আছে এদেশের প্রগতিশীলরা এর সম্মতি উৎপাদন করেছে। সাংবাদিক শফিক রহমান তো বলেই ফেলেছেন, সেদিন সংগ্রাম ও নয়া দিগন্ত আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদ হলে হয়তো প্রথম আলো আক্রান্ত হতো না।
মতভিন্নতা থাকুক, সাথে থাকুক পরমতসহিষ্ণুতা ও সংলাপ।
আবারও প্রথম আলোয় উগ্রবাদীদের অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানাচ্ছি ও এটা প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করছি।”
আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানকে ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ দিলো পাকিস্তান