ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীদের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক আমলনামা বা প্রোফাইল নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জমা দিতে শুরু করেছেন।
সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন হবে নিম্নোক্তভাবে:
•বিএনপি: ৩৫টি আসন (২০৯টি সাধারণ আসনের বিপরীতে)
•জামায়াতে ইসলামী: ১১টি আসন
•এনসিপি: ১টি আসন
•অন্যান্য (স্বতন্ত্র ও ছোট দল): ৩টি আসন
বিএনপিতে আলোচনায় যারা
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন:
•প্রবীণ ও অভিজ্ঞ: আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, নীলুফার চৌধুরী মনি ও শাম্মী আক্তার।
•তৃণমূল ও পেশাজীবী: নিপুণ রায় চৌধুরী, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, শাকিলা ফারজানা ও বীথিকা বিনতে হোসাইন।
•সাবেক ছাত্রনেত্রী: আসমা আজিজ, সুলতানা জেসমিন জুঁই, নাসিমা আক্তার কেয়া ও রোকেয়া চৌধুরী।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে ঈদের পর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জামায়াতের সর্বোচ্চ আসন ও প্রস্তুতি
সংসদীয় ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ ১১টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন উপযুক্ত নারীদেরই তারা মনোনয়ন দেবেন।
আলোচনায় আছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, মার্জিয়া বেগম এবং শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ। এছাড়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থেকেও একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপি ও অন্যান্য দল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একটি আসনের জন্য আলোচনায় আছেন মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদের মতো দলগুলোর মধ্যেও রয়েছে নানা সমীকরণ।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও নারী প্রতিনিধিত্ব
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সরাসরি নির্বাচনে এবার ৭ জন নারী জয়ী হয়েছেন। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে ৩৫০ সদস্যের সংসদে নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জনে, যা মোট আসনের প্রায় ১৬ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক: আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা