পুলিশের নির্দেশনা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তার খবর পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গত ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় জানানো হয়, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর, বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের পর বন্ধ কার্যালয় খোলা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মতো তৎপরতা কয়েকটি স্থানে চোখে পড়েছে। এতে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে করণীয় নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই সদর দপ্তর থেকে ‘পরিষ্কার বার্তা’ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জের চিঠি
গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান একটি লিখিত নির্দেশনা দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে মাঠপর্যায়ে তৎপর হতে পারেন-তাদের জামিনের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যাদের ক্ষেত্রে এমন সক্রিয়তার সম্ভাবনা নেই, তাদের জামিন হলে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিটি রাজশাহী বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর পরদিন বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়া তিনজনকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ ও সম্ভাব্য সক্রিয়তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশনার আইনি ভিত্তি ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ।
ডিআইজির ব্যাখ্যা
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিঠিতে কোনো দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তার ভাষ্য, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্যরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে আমাদের কাছে যদি তথ্য থাকে যে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাহলে তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে। আর অন্য মামলায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য না থাকলে তাঁকে তো গ্রেপ্তার দেখাতে বলা হয় নাই।”
ডিআইজি আরও বলেন, তিনি ‘আদিষ্ট হয়ে’ চিঠিটি দিয়েছেন। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোন পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হয়নি।তবে পুলিশ সূত্র বলছে, অতীতে বিভিন্ন সময় জামিনে মুক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন- এমন আশঙ্কা থাকলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অলিখিত চর্চা ছিল।
সদর দপ্তরের অবস্থান
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাজশাহীর চিঠির বিষয়ে সেখানকার ডিআইজি ভালো বলতে পারবেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই। যদি কেউ তা করেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্কৃতি: অমর একুশে বইমেলা অবশেষে শুরু আজ
অপরাধ ও দুর্নীতি: এবার সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরাতে ‘চিঠি দিয়েছিলেন’ তাজুল
নগর-মহানগর: ঢাকাকে গিলে ফেলেছে বিষাক্ত বায়ু
অপরাধ ও দুর্নীতি: চাঁদাবাজ–কিশোর গ্যাং দমনে রাতভর অভিযান, আটক শতাধিক