জেদ্দায় ড. খলিলুর রহমানের ব্যস্ত কূটনীতি
জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে আয়োজিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকের ফাঁকে দিনভর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এ সব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে জোরালো সমর্থন চান। একইসঙ্গে ফিলিস্তিন সংকটে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেদ্দায় অবস্থানের সময় ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া এবং ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের চেয়ারম্যান ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজির সঙ্গেও তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সব বৈঠকে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং উন্নয়নের গতি আরও বেগবান হবে।
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পূর্বস্মৃতি মনে করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী রমজানের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের “ভিশন ২০৩০” কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে ওআইসি সচিবালয়ের সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চায় সৌদি আরব।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই সংকটের একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে এবং জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশকে আরব ও ইসলামি বিশ্বের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেয়।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দেশ আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনে একমত হয়েছে। গাম্বিয়া কেবল বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং জাতিসংঘের নির্বাচনে আফ্রিকার দেশগুলোর ভোট আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এ সব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন মূলত বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দীর্ঘ চার দশক পর আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য লড়াই করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ প্রভাবশালী দেশগুলো শুরু থেকেই বাংলাদেশকে এই নির্বাচনী লড়াইয়ে অনড় থাকার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলো।
অপরাধ ও দুর্নীতি: লাঠি হাতে ভাইরাল রাকিব আসলে পলাতক খুনি
সারাদেশ: গজারিয়ায় মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা