image

জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার দ্রুত তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল

প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই তার প্রথম সফর।

শুক্রবার, (২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) জুমার নামাজের পর ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের চারতলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সরকার সে পথেই হাঁটবে এবং দ্রুত তদন্ত করা হবে। যেহেতু বিষয়টি আদালতে রয়েছে, তাই প্রয়োজন হলে আবারও তদন্ত করা হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও অকার্যকর করে ফেলেছিল। ভেঙে পড়া সেসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সুশাসনের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি (গত) নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং বর্তমানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।’ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

নিজ আসন ঠাকুরগাঁও-১ এর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণী। জনগণের মূল্যবান ভোট, আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি বিজয়ী হয়ে তাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হক সুমন, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ অন্য নেতারা এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে তিনি বিমানযোগে সৈয়দপুর এবং সেখান থেকে সড়ক পথে নিজ বাসভবনে পৌঁছান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। আজ সকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বিকেলে জেলা বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন। আগামীকাল সকালে তার ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার কথা রয়েছে। পুলিশ হত্যার পরিসংখ্যান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে ২৫ অক্টোবর নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ পরিদর্শক, ১১ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৭ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১ জন এটিএসআই, ১ জন নায়েক ও ২১ জন কনস্টেবল রয়েছেন।

নিহত তিন পুলিশ পরিদর্শক হলেন মো. আবদুর রাজ্জাক, রাশেদুল ইসলাম ও মো. মাসুদ পারভেজ ভূইয়া। নিহত ১১ জন এসআই হলেন সুজন চন্দ্র দে, খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, রেজাউল করিম, মো. মামুনুর রশিদ সরকার, বাছির উদ্দিন, রইস উদ্দিন খান, তহছেনুজ্জামান, প্রণবেশ কুমার বিশ্বাস, মো. নাজমুল হোসাইন, আনিসুর রহমান মোল্লা ও সন্তোষ চৌধুরী। নিহত সাতজন এএসআই হলেন সঞ্জয় কুমার দাস, ফিরোজ হোসেন, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, ওবায়দুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও মো. মোক্তাদির।

নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্য একজন টিএসআই রয়েছেন। তার নাম আলী হোসেন চৌধুরী। আরেকজন নায়েক মো. গিয়াস উদ্দিন। নিহত ২১ পুলিশ কনস্টেবল হলেন মো. আবদুল মজিদ, রেজাউল করিম, মাহফুজুর রহমান, শাহিদুল আলম, মো. আবু হাসনাত রনি, মীর মোনতাজ আলী, সুমন কুমার ঘরামী, মোহাম্মদ আবদুল মালেক, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আবদুস সালেক, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. রবিউল আলীম শাহ, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. আরিফুল আযম, মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. শাহিন উদ্দিন, মো. এরশাদ আলী, মাইনুদ্দিন লিটন, মো. সুজন মিয়া, মো. খলিলুর রহমান ও মো. হানিফ আলী।

তালিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন ১৪ জন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৫ জন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার ২ জন, কুমিল্লার তিতাস থানার ২ জন, চাঁদপুরের কচুয়া থানার ১ জন, হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার ১ জন, ঢাকার এসবির ১ জন, নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের ১ জন, ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের ১ জন, কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের ১ জন, কসবা থানার ১ জন, খুলনা মহানগর পুলিশের ১ জন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের ১ জন এবং ঢাকা জেলার ২ জন। নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২৫ জন থানার ভেতর ও সামনে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন।

সবচেয়ে বেশি ২৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার দিন। এর আগের দিন ৪ আগস্ট মারা গেছেন ১৪ জন। একক থানা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায়। জুলাই আন্দোলনে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে যে তাদের ৪৪ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন সময় তারা নিহত হন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি