image

মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা আটকা পড়েছেন ঢাকা বিমানবন্দরে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট হঠাৎ স্থগিত হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালের পর একে একে ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা আসতেই তৈরি হয় চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি। সন্ধ্যা ও রাতের ফ্লাইট ধরতে দুপুরের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাত্রীরা হঠাৎ করেই জানতে পারেন- তাদের গন্তব্যে আপাতত কোনো উড়ান যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকালের পর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা এলে অনেক যাত্রীকে আর চেক-ইন করতে দেওয়া হয়নি। ফলে বহির্গমন লাউঞ্জের বাইরে ও নিচতলায় বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান নিতে বাধ্য হন তারা। যাত্রীদের স্বজনদের উপস্থিতিতে সেখানে তৈরি হয় জটলা ও উদ্বেগপূর্ণ পরিবেশ। কেউ ফোনে এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কেউবা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে তথ্য জানতে ভিড় করছেন।

রাত ৮টা ৪০ মিনিটে জেদ্দাগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী আকবর হোসেন জানান, ১ মার্চ থেকে তার কাজে যোগদানের কথা ছিল। “দুপুরেই বিমানবন্দরে চলে আসি। পরে শুনি ফ্লাইট বাতিল। এখন কী করব বুঝতে পারছি না,” বলেন তিনি। একই রকম দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন আরেক যাত্রী আব্দুর রহিম। তারও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানোর কথা ছিল। “এখন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলছি। যদি সময়মতো পৌঁছাতে না পারি, চাকরি থাকবে কি না সেই ভয়ও আছে,” বলেন তিনি।

আকবর বা রহিম একা নন- তাদের মতো শত শত যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন বিমানবন্দরে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, বিকল্প ফ্লাইট বা নতুন সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাচ্ছেন না। ফলে কর্মস্থলে যোগদান, ভিসার মেয়াদ কিংবা ট্রানজিট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য এসএমএস, ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিম জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে।

তবে বাস্তবে অনেক যাত্রী বলছেন, তারা সময়মতো কোনো বার্তা পাননি। ফলে নির্ধারিত সময়েই বিমানবন্দরে এসে হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রবাসে কর্মরত বা নতুন করে কাজে যোগ দিতে যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেশি। অনেকেরই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিমান চলাচল ও শ্রমবাজারেও। বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। ফলে ফ্লাইট স্থগিতের প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মজীবন ও আয়-রোজগারের ওপর।

বর্তমানে যাত্রীরা জানতে চাইছেন- কবে থেকে ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে?তবে এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। আকাশসীমা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বিমান সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের রেশ এসে পড়েছে ঢাকার বিমানবন্দরে। অনিশ্চয়তার এই সময়ে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ও স্পষ্ট তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠাই সঙ্গী হয়ে থাকছে মধ্যপ্রাচ্যগামী শত শত মানুষের।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ফের বাড়লো