image

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রস্তুতি ঈদের পর, প্রতীকের সিদ্ধান্ত সংসদে

ফয়েজ আহমেদ তুষার

# বিগত কয়েকটি নির্বাচনে চেয়ারম্যান, মেয়র পদ দলীয় প্রতীকে হয়েছিল

# অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীকে ভোট বাতিল করে

# এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংসদে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

# সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কমিশন: ভারপ্রাপ্ত সিইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ

# অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ অনুযায়ি দলীয় প্রতীকের সুযোগ নেই: এনসিপি

রোজার ঈদের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সদ্য সরকার গঠন করা বিএনপিও চাচ্ছে দ্রুত এ নির্বাচন হোক। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটির নির্বাচন প্রথমে হবে। এরপর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন। পর্যায়ক্রমে সব স্তরের নির্বাচন হবে।

তবে এ নির্বাচনে সিটি ও পৌরসভা মেয়র এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের ভোট দলীয় প্রতীকে হবে, নাকি নির্দলীয়ভাবে হবে; বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিএনপি বলছে, বিষয়টি চূড়ান্ত হবে জাতীয় সংসদে। ইসিও বলছে, তারা সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। তবে ইসির এ বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপি বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সুযোগ নেই।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরু হয়। শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার এসব পদে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ আমলে একযোগে ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৩২৩টি পৌরসভার মেয়রকে অপসারণ করে। ক্ষেত্র বিশেষে প্রশাসক, প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্যানেল মেয়র নিয়োগ দেয়া হলেও ‘কার্যত অনেকটাই অচল হয়ে পরে’ স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান।

ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার (সদস্য), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের আয়োজন ইসির দায়িত্ব। ইসি বলছে, স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতি ঈদের পর থেকে শুরু হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে মেয়র ও চেয়ারম্যান পদ দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয়ভাবে এ হবে, সংসদ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে, তাই স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বহাল থাকবে কি না- তা কার্যত বিএনপির অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।

২০১৫ সালে পৌরসভায় এবং ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার শুরু হয়। এর পর থেকে সব নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদ দলগতভাবে(দলীয় প্রতীকে) হয়েছে। সে সময় কিছু রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকেরা আপত্তি জানালেও তা কাজে আসেনি। আইন সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান যুক্ত করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

স্থানীয় সরকারকে ‘পুনরায় কার্যকর করতে’ বিএনপি দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন নির্বাচন আয়োজনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সচল করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছয় সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সাক্ষাৎ প্রদান অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “সিটি করপোরেশনের মধ্যে যেটির মেয়াদ আগে শেষ হবে, সেখানে আগে নির্বাচন হবে।”

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান এলজিআরডি মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে বাকি সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের আয়োজন করবে সরকার।”

মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে ভোট দলীয় প্রতীকে হবে কিনা, এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিষয়টি সংসদে নির্ধারিত হবে।”

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ রোববার বলেছেন, “ঈদের পর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “দলীয় প্রতীক নাকি নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে তার জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছি।”

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিইসির দায়িত্ব পালন করছেন আবদুর রহমানেল মাছউদ।

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি-আরএফইডির বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সিইসি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কোনো অবসর নেই। সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও অনেক স্থানীয় নির্বাচন আছে তা আয়োজন করতে হয়। সারাবছর ধরে নির্বাচন হবে।”

এদিকে, দলীয় প্রতীকের বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্তের অপেক্ষার বিষয়ে ইসির বক্তব্যের সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র সম্প্রতি বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং মানুষের ‘দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই’ সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের এলজিআরডি উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকার সময় এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন হয়েছে। তাই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ‘দলীয় প্রতীক ছাড়াই’ করতে হবে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি