জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে সারাদেশে মোট ২৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেল” এর সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দেশের সবুজায়ন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বিশাল সংখ্যক চারা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কেবল সরকারি নার্সারির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকেও মানসম্মত চারা সংগ্রহ করা হবে। মূলত সারাদেশে বনায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের কোথাও যেন জায়গা খালি না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পাড়, সড়ক ও মহাসড়কের দুই ধার এবং বিদ্যমান বনাঞ্চলের বৃক্ষহীন এলাকায় নতুন করে গাছ লাগানো হবে।
এ ছাড়া সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বাধ্যতামূলকভাবে বৃক্ষরোপণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করবে এবং সেই গাছের পরিচর্যার দায়িত্বও তারা নিজেরা পালন করবে। এতে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিব নিজ নিজ দপ্তরের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ দিকে দিনের অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং জনস্বার্থে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।