image

তেল ও এলএনজির বিকল্প ‘কয়লা’, সরকার কি সে পথে হাঁটবে?

ফয়েজ আহমেদ তুষার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২২ শতাংশের বেশি তেল নির্ভর। গ্যাসভিত্তিক যে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেগুলোর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি এলএনজি। এই তেল ও এলএনজির সিংহভাগই আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, ‘হুমকিতে’ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সিংহভাগ তেল ও এলএনজি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে

কৃষি ও পরিবহন খাতও পুরোপুরি নির্ভরশীল আমদানিকৃত ডিজেলের ওপর

চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

গ্যাস ও কয়লার মজুত

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত আছে ৮ টিসিএফ যা আগামী এক দশকে ফুরিয়ে যাবে

মজুত কয়লার ২০% উত্তোলনযোগ্য হলে তা ৪০ টিসিএফ গ্যাসের সমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে

প্রশ্ন উঠেছে

তেল-গ্যাস আমদানি করে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যহত থাকবে

নাকি দেশীয় কয়লা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত আসবে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলার পাশপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের তেল আমদানিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ‘কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে’- ইরানের তরফে গত সোমবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সংঘাতের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের জন্য বড় সংকট তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত আছে ১৪ দিনের। অকটেনের মজুত আছে ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েল মজুত আছে ৫৫ দিনের।

জ্বালানি আমদানিতে বর্তমান ঝুঁকি

দেশের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত। পাশাপাশি কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বিঘেœর বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি সভা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশে যথাসময়ে এবং কাক্সিক্ষত পরিমাণে জ্বালানি আমাদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। হ্রাস পেতে পারে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন।

দেশীয় গ্যাস সংকট

দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটও চলছে অনেকদিন ধরে। বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে মোট মজুত আছে ৮ টিসিএফের (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) মতো। দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ এমএফসিএফ; এরমধ্যে ৯০০ এমএমসিএফ আমদানি করা এলএনজি।

দেশে এখন বছরে গড়ে গ্যাস উৎপাদন করা হয় পৌনে এক টিসিএফ গ্যাস। এ হিসাবে মজুত গ্যাস দিয়ে প্রায় ১১ বছর উৎপাদন চলার কথা থাকলেও দিন দিন চাহিদা বাড়লে গ্যাস আরও দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। প্রশ্ন উঠেছে, এই প্রেক্ষাপটে আমদানি করা তেল ও এলএনজির নির্ভর ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে নাকি দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।

কয়লার মজুত কত?

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কয়লা খনি আবিষ্কার হয়েছে। এসব খনিতে ৭ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন টন কয়লার মজুত আছে। জ্বালানি বিভাগের উপস্থাপনায় উঠে এসেছে, এই কয়লার কুড়ি শতাংশ উত্তোলনযোগ্য যার পরিমাণ ১ হাজার ৫৬৪.৬ মিলিয়ন টন। এ পরিমাণ কয়লা ৪০.৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের (টিসিএফ) সমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

এখন শুধু বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে। ২০২৭ সালের পর বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) কয়লা উত্তোলনের অনুমোদিত কোনো পরিকল্পনা নেই।

* কয়লা উত্তোলনের বর্তমান পরিস্থিতি

সদ্য সরকার গঠন করা বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কম মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলেছে। জ্বালানি আমদানি কমানোর কথাও বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে দেশীয় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কথা।

জ্বালানি আমদানি হ্রাস করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় খনিজের ব্যবহার বাড়ানোর যে উদ্যোগ সেটি কয়লা উত্তোলনের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

সদ্য বিদায়ী সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও দেশীয় কয়লা উত্তোলনের গুরুত্ব অনুধাবন করেছে। তবে ওই সরকার বলে গেছে, কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত তারা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের পথ নকশা প্রণয়ন করছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, বিএনপি সরকার তাদের ১৮০ দিনের পথনকশায় ‘কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যে ইঙ্গিত দিয়েছে’ তা বাস্তবায়ন করলে জ্বালানি রূপান্তর ‘বড় প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করবে। এ ধরনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও পিছিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছে বেসরকারি এ গবেষণা সংস্থাটি।

* সিপিডির পরামর্শ

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি বিএনপির রোডম্যাপের ভেতরে নতুন করে দেশে কয়লা উত্তোলনের এক ধরনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যে কয়লা উত্তোলন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রকমের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এবং এটা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও পিছিয়ে দেবে।’

সরকারকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ না নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, স্থলে ও সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। মডেল পিএসসি সংশোধন করে বিদেশীদের সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আকৃষ্ট করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ‘কখনোই সমাধান হতে পারে’ বলে সিপিডি মনে করে না। নতুন সরকারকে আর কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে বলেন।

* কোন পদ্ধতিতে উত্তোলন?

জ্বালানি সংকট এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের পক্ষে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। কয়লা তোলার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- নতুন তিনটি কয়লা খনি ফুলবাড়ী, দীঘিপাড়া ও খালাশপীর থেকে কয়লা উত্তোলন করা।

কয়লা উত্তোলনে প্রধানত দুটি পদ্ধতি বহুল প্রচলিত। একটি হলো ওপেন পিট মাইনিং বা উন্মুক্ত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে খনি থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ কয়লা তোলা যায়। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সুপারিশ রয়েছে এশিয়া এনার্জি নামক একটি কোম্পানির (বর্তমানে জিসিএম)। ফুলবাড়িতে চব্বিশ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটির ১৪১-২৭০ মিটার গভীরে ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার মজুত আছে।

কয়লা উত্তোলনের আরেকটি প্রচলিত পন্থা হলো ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গ করে খনির গভীর থেকে কয়লা উঠানো হয়। এটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশের বড় পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। এ দুই পদ্ধতির বাইরে কোল বেড মিথেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতিতে কয়লা থেকে জ্বালানি সম্পদ আহরণের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে জামালগঞ্জ কয়লা খনিতে কোল গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতি কাজ করে কিনা সেটি সমীক্ষা করার প্রস্তাব রয়েছে।

* স্পর্শকাতর ইস্যু

তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খননের প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা এবং বিতর্ক আছে। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লা খনির বিরুদ্ধে বড় আন্দোলন হয়েছিল। আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে স্থানীয়দের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছিল।

সবমিলিয়ে বাংলাদেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন দেশের জন্য ‘সর্বনাশ হবে এমনটাই মনে করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনের সাবেক সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বরাবরই বলে আসছেন, দেশের ফসলি জমি, জনবসতি এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে বলেই বাংলাদেশে উন্মুক্ত কয়লা খনি সম্ভব নয়।

* কোন জ্বালানিতে কত বিদ্যুৎ?, খরচ কত?

বিপিডিবির তথ্যানুযায়ী, দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। এরমধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এরমধ্যে ফার্নেস তেলে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১৬-২০ টাকা, ডিজেলে ২৫-৩০ টাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেদে ক্যাপাসিটি চার্জ যুক্ত হলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ হলেও এতে উচ্চ মূল্যে আমদানি করা এলএনজির মিশ্রণ রয়েছে ৩০-৩৫ ভাগ বা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। প্রতি ইউনিট দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে খরচ ২-৩ টাকা। বিদেশ থেকে প্রতি ইউনিটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনতে খরচ হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা।

গ্যাসে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ৬ টাকার মতো।

বিপিডিবির পরিসংখ্যানে যে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে এরমধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, নবায়নযোগ্য জ¦ালানি ২ দশমিক ৯০ শতাংশ, জলবিদ্যুৎ শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ। বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট ১৬ টাকার মতো পড়ছে। আমদানি করা বিদ্যুতেও খরচ এর কাছাকাছি হচ্ছে।

* মেগাওয়াট হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্র

মেগাওয়াটের হিসেবে বিপিডিবির যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, মোট সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.৫১ শতাংশ) এবং ডিজেলভিত্তিক ৭৬৮ মেগাওয়াট (২.৬৬ শতাংশ)।

স্থাপিত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক সক্ষমতা ৬ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট, নবায়নযোগ্য ৮৩৯, জলবিদ্যুৎ ২৩০ এবং বিদ্যুৎ আমদানি হয় ২ হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট।

* সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট

রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। আবার স্থাপিত ক্ষমতা বেশি হলেও পুরাতন হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের।

চাহিদার বিপরীতে দেশে গত বছর ২৩ জুলাই ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল, যা এ যাবৎ সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত।

এবার গ্রীষ্মকাল ও সেচের সময় দেশে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

* বিদ্যুৎ সরকারি কত?, বেসরকারি কত?

মোট ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত ৬৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ। চীনের সঙ্গে দুটি এবং ভারতের সঙ্গে একটি; যৌথ উদ্যোগে নির্মিত তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট বা ১১ শতাংশ।

বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৩৭ শতাংশ। ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি ২ হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট (৯ শতাংশ); এরমধ্যে নেপাল থেকে আমদানি ৪০ মেগাওয়াট।

* জ্বালানি তেলের মজুত কত দিনের?

বিদ্যুৎ খাতে বিপিডিবি ডিজেলের ব্যবহার কমাতে চাইলেও দেশের কৃষি ও পরিবহন খাত আমদানি করা ডিজেলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে ডিজেলের মজুত আছে ১৪ দিনের। অকটেনের মজুত আছে ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েল মজুত আছে ৫৫ দিনের। তিনি বলেছেন, ‘নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে এই মজুত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয়।’

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখে সরকার তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি