জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চায় সরকার
‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ
সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশ
বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালু করা কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, শুধু এলজিইডির পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে ১৭০টি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ও তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এরকম যেসব পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে, সেগুলো ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর ৩৪ লাখ নবজাতক জন্ম গ্রহণ করে।
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রতি বছর নবজাতক জন্মের যে পরিসংখ্যান, সেটি নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে বলা হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, যার মধ্যে নারী ৮০ শতাংশ এবং পুরুষ ২০ শতাংশ, নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকদের যাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তাগাদা দিয়েছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সভায় সারাদেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্ম-পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, সরকারি নার্সারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা হবে। সারাদেশে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পাড়, সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশ, বনাঞ্চলে যেখানে বৃক্ষ নেই সেসব স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনা প্রভৃতি স্থানে এসব বৃক্ষরোপণ করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি করে বৃক্ষরোপণ করবে এবং সেই বৃক্ষ তারা পরিচর্চা করবে।
বৈঠকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।