দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জনস্বার্থে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন যুগোপযোগীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিদ্যমান জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, বিদ্যমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর এই দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অথচ বর্তমানে দেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জন্মই নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। আয়োজকরা জানান, দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৩২জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
ইউনেস্কোর বরাতে কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্ম গ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করলেও তাদের প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাষ্ট্রের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।
নগর-মহানগর: নামছে বিআরটিসির নারী বাস