দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘মুজিব কিল্লা’ প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মোস্তফা কামালের ব্যবসায়িক অংশীদার নোমানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক সৌরভ দাস আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান কাজে হাতে আসা সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আনোয়ারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার একজন আয়কর দাতা। ‘সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের আয়কর নথি ও নথি সংশ্লিষ্ট সংযুক্ত অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।’
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ডিএমডি মাহমুদ হাসান এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জান্নাতুন নেসা জাকিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুদকের পৃথক আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে এবং দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একটি মামলা তদন্তে রয়েছে। ‘অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।’
মোস্তফা কামালের ব্যবসায়িক অংশীদার নোমানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামালের ব্যাবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ আবু নোমানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের পক্ষে সংস্থার পরিচালক আবুল হাসনাত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘আ হ ম মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল এবং তাদের দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামালরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠিয়ে, দুবাইয়ে সম্পত্তি গড়া, শেয়ার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিধি বহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচার করেন।’
‘মোস্তফা কামাল ও নাফিসা কামালের ব্যবসায়ী পার্টনার, কানাডা-দুবাইয়ের স্থায়ী নাগরিক ও অর্থ পাচারকারী মোহাম্মদ আবু নোমান মালিকানাধীন সকল মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ও তার সব সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণসংক্রান্ত অভিযোগেরর অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের বিষয়টি রাষ্ট্রের স্বার্থে অর্থপাচার বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ।’ দুদক বলছে, আবু নোমান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বছরের একটা বড় অংশই বিদেশে থাকেন। তার একাধিক দেশের নাগরিকত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুসন্ধান চলমান থাকায় তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও খবর এসেছে। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।