ঈদে ঢাকা ছাড়বেন দেড় কোটি মানুষ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় পুলিশ

বাকী বিল্লাহ

* নিরাপদ ঈদযাত্রার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

* চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া রোধে কঠোর পদক্ষেপ

* ঈদের আগে তিনদিন মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরি চলাচল বন্ধ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানানো গেছে।

সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ করিডোর ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মেরামত ও সংস্কারের কাজ ঈদের অন্তত ১০ দিন আগেই শেষ করতে হবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব টার্মিনালকে বিআরটিএ ও পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।

উপজেলা, জেলা ও মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলোকে ঈদের আগে সভা করে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী বহন প্রতিরোধে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সড়কের পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার অপসারণ ও পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয় সভায়। টোল প্লাজাগুলো যানজটমুক্ত রাখতে সার্বক্ষণিক ইটিসি বুথ চালু রাখা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ আগের ৭ দিন ও পরের ৫ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়।

ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ঈদের তিন দিন আগে থেকে তিন দিন পর পর্যন্ত মোট সাত দিনের জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। যার টেলিফোন নম্বর ১৬১০৭ ও মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬ ও ১০৫৫০০৫৬৫৭৭।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, "আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আরও বেশি তৎপর থাকবে।"

ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত ব্যবস্থাপনা করা বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।"

ঈদে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক মন্ত্রী বলেন, "সড়কে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

https://sangbad.net.bd/images/2026/March/05Mar26/news/%E0%A6%B8%E0%A7%9C%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%A8%20%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%20%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF.jpg

ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি