image

আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা

জাকাত ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রী দিলেন নতুন পরিকল্পনা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাকে একটি পরিকল্পিত ও কার্যকর কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি দরিদ্র পরিবার রয়েছে। যদি সঠিক ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বণ্টন করা যায়, তবে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এই জাকাত ব্যবস্থাপনাই দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি জাকাত প্রদান করা হয়। কিন্তু সুসংগঠিত বণ্টনের অভাবে এর সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে আশানুরূপভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে ওই পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে এবং পরবর্তী বছর তাদের আর জাকাত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এই প্রক্রিয়াটি সফল হলে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ইসলামিক বিশ্বে বাংলাদেশ একটি আদর্শ মডেলে পরিণত হবে।

জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বোর্ডটিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এই বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এতিম শিশুদের প্রতি বিশেষ মমতা প্রকাশ করে বলেন, আজকের আয়োজনে এতিম শিশুরাই তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এতিমদের হক আদায়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ সব শিশুর দায়িত্ব নেন।

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রমজান হলো সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কিছু ব্যবসায়ী এই সময়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলেন।

তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন কেউ মানুষের এই দুর্ভোগের কারণ না হন।

একইসঙ্গে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যয় সংকোচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হতে পারে এই রমজানের শেষ ইফতার।

সবশেষে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণ ও সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সফল করতে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া প্রার্থনা করেন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি