image

বিকল্প উৎস থেকে আসছে জ্বালানি তেল: প্রতিমন্ত্রী

আফ্রিকা, আমেরিকা, ভারত থেকে আসবে জ্বালানি তেল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথাগত উৎসের বাইরে গিয়ে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিকল্প এই দুই উৎস থেকে শিগগিরই জ্বালানি তেল দেশে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তেলের সরবরাহ বাড়াতে প্রতিবেশী দেশ ভারতকেও অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ সব তথ্য জানান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ থাকলেও প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, এখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সরবরাহে ঘাটতি থাকার বিষয়ে জনগণের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং মার্চের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুদ দেশে রয়েছে। সরকার বর্তমানে আগামী এপ্রিল ও মে মাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক ভিড় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের পাম্পে অতিরিক্ত ভিড় করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য যে ভিড় দেখা যাচ্ছে সেটি অপ্রয়োজনীয়, কারণ দেশে পেট্রোলের চাহিদা শতভাগ দেশীয় উৎপাদন থেকেই মেটানো হয়। এমনকি অকটেনের বড় একটি অংশও দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা দ্রুতই কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাইড শেয়ারিং সেবায় যুক্ত মোটরসাইকেল চালকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে মোটরসাইকেলে একবারে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বা দুই লিটার তেল নেওয়ার যে সীমা ছিল, সেটি বাড়িয়ে এখন পাঁচ লিটার করা হয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখনই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান।

এই সিদ্ধান্তের ফলে চালকদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি আমদানির হালনাগাদ তথ্য দিয়ে তিনি জানান, ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে একটি জাহাজ ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং আরেকটি বহির্নোঙরে রয়েছে, যা আজই খালাস শুরু হবে।

এ ছাড়া আগামী ১২ মার্চ আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকার অবকাশ নেই।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অতীতেও কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও আল্লাহর রহমতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। কেবল ধৈর্যের পরিচয় দিলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সম্প্রতি