ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কারও মধ্যে বিরোধ থাকার কথা নয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন,“আমাদের দল, মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।”
অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ থেকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
বক্তৃতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার ভাষায়, দল বা ব্যক্তির স্বার্থ নয়—জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়।
তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সংসদের সব দলের সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অধিবেশনের শুরুতে সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে যে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছিল, তার ফলেই সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের একটি উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য মাওলানা আব্দুর রশিদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
বক্তৃতার শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধান এবং গণতান্ত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।