দেশের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য ‘সম্মানী ভাতা’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রেখে একটি রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।
‘মানবিক ও স্বনির্ভর’ সমাজ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি আগামী ‘১০ বছরের’ মধ্যে একটি ‘অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বনির্ভর’ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) ওসমানী মিলনায়তনে ইমাম খতিব মোয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা চালুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থনৈতিক ‘বৈষম্য দূর করতে’ সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই আমরা আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালু হতে যাচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় সারাদেশে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬,৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ‘যোগ্য’ ধর্মীয় গুরুদের এই ভাতার আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতা দিয়ে একটি মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়। ধৈর্য, সততা, উদারতা ও সহনশীলতার মতো মানবিক গুণাবলী অর্জনে ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, “একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজ গঠনের জন্য প্রতিটি ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। আপনারা আপনাদের শিক্ষা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আরও বেশি ভূমিকা রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ এবং ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া সরকার কর্তৃক ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালুর কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার ‘সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে’ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ‘যোগ্যতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে’ লাগানোর ‘পরিকল্পনা’ করছে বলে জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে একজন করে ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ এক কাতারে রয়েছি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।”
অর্থ-বাণিজ্য: উচ্ছেদের পর আবারও রমরমা ‘টাকার বাজার’
অর্থ-বাণিজ্য: ব্রয়লার মুরগির দাম আরও এক দফা বেড়ে দাঁড়ালো ২২০ টাকা
নগর-মহানগর: ঈদে রেলের টিকেট পেয়েছে ৩৬ হাজার