alt

স্টিমকার গেমিং অ্যাপে জুয়া, আড্ডা ও টাকা পাচার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

অনলাইনভিত্তিক ভিডিও গেমিং অ্যাপ স্ট্রিমকার। তরুণীদের লাইভ ভিডিওতে যুক্ত করে আমন্ত্রণ জানানো হয় আড্ডার জন্য। যারা লাইভে আড্ডা দিতে চান তাদের বিন্স ও জেমস নামে দুটি কয়েন কিনে ওই তরুণীদের উপহার দিতে হয়। এরপর তার সঙ্গে লাইভে আড্ডার সুযোগ মেলে। পাশাপাশি চলে অনলাইন জুয়া খেলা। এ চক্রে ফেলে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এ গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত এক বছরে এ অ্যাপ ব্যবহারের নামে আড্ডা ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের ব্যাংক হিসেবে ৩০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। পুলিশের ধারণা, এ রকম বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে।

গত মে মাসে স্টীমকার অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়া খেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গি কার্যক্রমবিরোধী কার্যক্রম পর্যবেক্ষন ও অভিযানকারী পুলিশের সংস্থা এন্টি টেররিজম ইউনিট। ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি সাইবার পুলিশ বিভাগ আরও ২ এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআইডির ভাষ্য, তারা স্ট্রিমকার অ্যাপসে জুয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া চক্রের ১৫টি ব্যাংক হিসেব পেয়েছে। ৯ জুন সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হন স্ট্রিমকার অ্যাপের এজেন্ট নিধু রাম দাস (২৭) এবং ফরিদ উদ্দিন (৪০)।

এর আগে এন্টি টেররিজম ইউনিট গত মে মাসের ১৫ তারিখে গ্রেপ্তার করে জমির উদ্দিন, কামরুল হোসেন ওরফে রুবেল, মনজুরুল ইসলাম হৃদয় ও অনামিকা সরকার। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

গতকাল দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান বলেন, চক্রটি দেশের যুব সমাজ ও প্রবাসীদের টার্গেট করে এই ব্যবসায় নামে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ঠচঘ) ব্যবহার করে দেশ থেকে অ্যাপটিতে যুক্ত হতেন ব্যবহারকারীরা। এ অ্যাপে দুই ধরনের আইডি রয়েছে। একটি ব্যবহারকারীর ও অন্যটি হোস্ট আইডি। হোস্ট আইডি ব্যবহার করে চক্রটি এ ধরনের অপরাধজনক কার্যক্রম পরিচালনা করত।

অতিরিক্ত জিআইজি কামরুল আহসান বলেন, লেনদেনের জন্য নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করে চক্রটি। চক্রটির কাছ থেকে এই মুদ্রা টাকায় কিনতে হতো ব্যবহারকারীদের। প্রথমে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তরুণীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডা দেয়ার প্রলোভনে অ্যাপে ঢোকেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। সেজন্য বিন্স নামে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হয় তাদের। সেই মুদ্রা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হন ব্যবহারকারীরা। অনলাইনে এ কার্যক্রম পরিচালনায় বিন্স ও জেমস নামের দুটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে এই লাইভ ভিডিও ও চ্যাট আপে তরুণীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে হতো। এক লাখ বিন্স এক হাজার ২০ টাকায় এবং এক লাখ জেমস ৬০০ টাকায় কিনতে হতো ব্যবহারকারীদের। চক্রটি ব্যবহারকারীদের কাছে অনলাইনে এ মুদ্রা বিক্রি করত।

তিনি আরও বলেন, মুদ্রা কেনার টাকা চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিতেন। পরে তারা মুদ্রা কেনার টাকার একটি অংশ অ্যাপের বিদেশি অ্যাডমিনদের কাছে পাঠাতো। যেহেতু অ্যাপটি বিদেশি সেহেতু অ্যাপটি পরিচালনা করত বিদেশি অ্যাডমিনরা আর গ্রেপ্তাররা বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, নেটেলার, স্ক্রিল ও বিদেশি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুদ্রা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতিমাসে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। কামরুল আহসান বলেন, স্ট্রিমকার পরিচালনায় জড়িত প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গ্রেপ্তার নিধু রাম দাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে ১০ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। অন্যজন ফরিদ উদ্দিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে দেশীয় এজেন্ট হিসেবে আরও অনেকে জড়িত আছেন। সব এজেন্টকে মিলিয়ে তাদের বিকাশ ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি জানায়, সারাদেশেই স্ট্রিমকার অ্যাপস ব্যবহারকারী আছে। উঠতি বয়সী তরুণরাই এ অ্যাপসের ব্যবহারকারী বেশি। ইতোমধ্যে তারা ২০ থেকে ২২ জনের একটি গ্রুপ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে দেশের প্রতিটি জেলা ও থানা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এ চক্রের এজেন্ট আছে। এ বিষয় নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছে।

এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউর) এসপি মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিশেষ অ্যাপ স্ট্রিমকার। বাংলাদেশে এই অ্যাপ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কে মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মূলত চ্যাটিং করা হয়। তারা যখন ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তখন স্ট্রিমকার অ্যাপসের মতো শত শত অ্যাপসের সন্ধান পেয়েছে। ওইসব অ্যাপসে ব্যবহারকারীরা সাধারণত সুন্দরী মেয়ে ও সেলিব্রিটিদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার জন্য ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে যারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন তারা প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। দেশের সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী স্ট্রিমকার অ্যাপ ব্যবহারকারী ওই চক্র প্রায় শতকোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে।

ছবি

আরব আমিরাতে আরও ২৪ বন্দীকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে: আসিফ নজরুল

ছবি

ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দ্রুত দাখিলে তদন্ত কর্মকর্তাকে তাগিদ আদালতের

ছবি

‘চাপের মুখে’ প্রশাসন, স্বাধীন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশন’ চায় বিএএসএ

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৭০ হাজারের বেশি প্রবাসীর নিবন্ধন

ছবি

আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

এমপিওভুক্তির দাবিতে ৩৩তম দিনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান

নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ চার দাবিতে ‘শিক্ষা ভবন’ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি মাধ্যমিক শিক্ষকদের

৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের ফল প্রকাশ: সুপারিশ পেলেন ৫৬৫ জন

ছবি

বিমানবাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

‘ঘুষ-দুর্নীতি’: ঢাকা উত্তরের প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

সাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

বাউলদের ওপর হামলা: সাঁড়াশি অভিযান চলছে, বললেন প্রেস সচিব

প্রবাসী ভোটার: পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না দিলে ব্যালট যাবে না

ভবন ও নির্মাণ কাজ অনুমোদনে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আরাকান আর্মির হাতে আটক ১২ জেলে

ট্রাইব্যুনালে হাসিনার পক্ষে লড়বেন না জেড আই খান পান্না

ছবি

ডেঙ্গু: আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ৫৬৭ জন

আতঙ্ক না কাটতেই আবারও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কাঁপলো দেশ

ত্রয়োদশ নির্বাচন: নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হবে তিন স্তরে

ছবি

প্লট দুর্নীতি: হাসিনা ও দুই সন্তানের সাজা

ছবি

সুপ্রিমকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হলেন ড. মো. আতিকুস সামাদ

ছবি

দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প—আতঙ্কের মধ্যেই ফের কেঁপে উঠল বাংলাদেশ

ছবি

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ সাজা না পেয়ে হতাশ দুদক

ছবি

প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

ছবি

ডেঙ্গুতে আরও ৬১৫ জন হাসপাতালে, মৃত্যু ৩

ছবি

৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি

ছবি

‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’: বিএনপির প্রার্থী তুলির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

ছবি

ক্রিকেটার সাকিবের মামলায় প্রতিবেদন জমা ৩ মার্চে

ছবি

সাবেক আইজিপি বেনজীরের স্ত্রী-কন্যা ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

ছবি

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে লেখা চিঠির জবাব এখনও দেয়নি ভারত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি

হাসিনার লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ

ছবি

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ; ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ

ছবি

শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোচিং বা গাইড বই বন্ধ হবে না: শিক্ষা উপদেষ্টা

ছবি

পোস্টাল ভোটিং: একযোগে সব প্রবাসীর নিবন্ধন শুরু

ছবি

নির্বাচন ঠেকাতে চাইবে যারা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: সিইসি

ছবি

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ দুই দফা চিঠি দিলেও সাড়া দেয়নি ভারত : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

tab

স্টিমকার গেমিং অ্যাপে জুয়া, আড্ডা ও টাকা পাচার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

অনলাইনভিত্তিক ভিডিও গেমিং অ্যাপ স্ট্রিমকার। তরুণীদের লাইভ ভিডিওতে যুক্ত করে আমন্ত্রণ জানানো হয় আড্ডার জন্য। যারা লাইভে আড্ডা দিতে চান তাদের বিন্স ও জেমস নামে দুটি কয়েন কিনে ওই তরুণীদের উপহার দিতে হয়। এরপর তার সঙ্গে লাইভে আড্ডার সুযোগ মেলে। পাশাপাশি চলে অনলাইন জুয়া খেলা। এ চক্রে ফেলে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এ গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত এক বছরে এ অ্যাপ ব্যবহারের নামে আড্ডা ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের ব্যাংক হিসেবে ৩০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। পুলিশের ধারণা, এ রকম বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে।

গত মে মাসে স্টীমকার অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়া খেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গি কার্যক্রমবিরোধী কার্যক্রম পর্যবেক্ষন ও অভিযানকারী পুলিশের সংস্থা এন্টি টেররিজম ইউনিট। ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি সাইবার পুলিশ বিভাগ আরও ২ এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআইডির ভাষ্য, তারা স্ট্রিমকার অ্যাপসে জুয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া চক্রের ১৫টি ব্যাংক হিসেব পেয়েছে। ৯ জুন সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হন স্ট্রিমকার অ্যাপের এজেন্ট নিধু রাম দাস (২৭) এবং ফরিদ উদ্দিন (৪০)।

এর আগে এন্টি টেররিজম ইউনিট গত মে মাসের ১৫ তারিখে গ্রেপ্তার করে জমির উদ্দিন, কামরুল হোসেন ওরফে রুবেল, মনজুরুল ইসলাম হৃদয় ও অনামিকা সরকার। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

গতকাল দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান বলেন, চক্রটি দেশের যুব সমাজ ও প্রবাসীদের টার্গেট করে এই ব্যবসায় নামে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ঠচঘ) ব্যবহার করে দেশ থেকে অ্যাপটিতে যুক্ত হতেন ব্যবহারকারীরা। এ অ্যাপে দুই ধরনের আইডি রয়েছে। একটি ব্যবহারকারীর ও অন্যটি হোস্ট আইডি। হোস্ট আইডি ব্যবহার করে চক্রটি এ ধরনের অপরাধজনক কার্যক্রম পরিচালনা করত।

অতিরিক্ত জিআইজি কামরুল আহসান বলেন, লেনদেনের জন্য নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করে চক্রটি। চক্রটির কাছ থেকে এই মুদ্রা টাকায় কিনতে হতো ব্যবহারকারীদের। প্রথমে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তরুণীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডা দেয়ার প্রলোভনে অ্যাপে ঢোকেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। সেজন্য বিন্স নামে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হয় তাদের। সেই মুদ্রা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হন ব্যবহারকারীরা। অনলাইনে এ কার্যক্রম পরিচালনায় বিন্স ও জেমস নামের দুটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে এই লাইভ ভিডিও ও চ্যাট আপে তরুণীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে হতো। এক লাখ বিন্স এক হাজার ২০ টাকায় এবং এক লাখ জেমস ৬০০ টাকায় কিনতে হতো ব্যবহারকারীদের। চক্রটি ব্যবহারকারীদের কাছে অনলাইনে এ মুদ্রা বিক্রি করত।

তিনি আরও বলেন, মুদ্রা কেনার টাকা চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিতেন। পরে তারা মুদ্রা কেনার টাকার একটি অংশ অ্যাপের বিদেশি অ্যাডমিনদের কাছে পাঠাতো। যেহেতু অ্যাপটি বিদেশি সেহেতু অ্যাপটি পরিচালনা করত বিদেশি অ্যাডমিনরা আর গ্রেপ্তাররা বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, নেটেলার, স্ক্রিল ও বিদেশি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুদ্রা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতিমাসে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। কামরুল আহসান বলেন, স্ট্রিমকার পরিচালনায় জড়িত প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গ্রেপ্তার নিধু রাম দাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে ১০ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। অন্যজন ফরিদ উদ্দিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে দেশীয় এজেন্ট হিসেবে আরও অনেকে জড়িত আছেন। সব এজেন্টকে মিলিয়ে তাদের বিকাশ ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি জানায়, সারাদেশেই স্ট্রিমকার অ্যাপস ব্যবহারকারী আছে। উঠতি বয়সী তরুণরাই এ অ্যাপসের ব্যবহারকারী বেশি। ইতোমধ্যে তারা ২০ থেকে ২২ জনের একটি গ্রুপ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে দেশের প্রতিটি জেলা ও থানা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এ চক্রের এজেন্ট আছে। এ বিষয় নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছে।

এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউর) এসপি মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিশেষ অ্যাপ স্ট্রিমকার। বাংলাদেশে এই অ্যাপ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কে মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মূলত চ্যাটিং করা হয়। তারা যখন ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তখন স্ট্রিমকার অ্যাপসের মতো শত শত অ্যাপসের সন্ধান পেয়েছে। ওইসব অ্যাপসে ব্যবহারকারীরা সাধারণত সুন্দরী মেয়ে ও সেলিব্রিটিদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার জন্য ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে যারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন তারা প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। দেশের সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী স্ট্রিমকার অ্যাপ ব্যবহারকারী ওই চক্র প্রায় শতকোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে।

back to top