image

আমি কোনো দল বা স্বার্থান্বেষী মহলের আপন হতে চাই না: রুমিন ফারহানা

জেলা বার্তা পরিবেশক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণ আমার পাশে আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য একটাই- ৫২’র ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেননি। সেই আন্দোলন করেছিলেন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই ভাষা আন্দোলনে গণমানুষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধেও সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল বলেই জনগণের আকাক্সক্ষা বিজয় লাভ করে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মানুষ যা চেয়েছে, যুগে যুগে কালে কালে সেটাই হয়েছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সবই সাধারণ মানুষের রক্তে লেখা।

তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমার বাইরে আমার দলের আর কোনো নেতাকে দেখেনি। তাই আমি বলি, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি; এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।’ আমি কোনো দল, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের আপন হতে চাই না। আমি আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি আমার জীবন বাজি ধরেছি।

গতকাল শনিবার রাতে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, যারা কিছুদিন আগেও কচুখেতের নিচে ছিল, হ্যাজাক বাতি দিয়েও যাদের খুঁজে পাওয়া যেত না, তারাই এখন আমার নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে ভয় দেখায়। ১৫ মাসে এত চর্বি জমেছে যে তারা হুমকি দেয়। আমি হুমকি দেব না, বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- আমার কোনো নেতাকর্মীর গায়ের একটি পশমেও যদি কেউ হাত দেয়, তার জবাব দিতে হবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও আমি এক মুহূর্তের জন্য ভয় পাইনি। আর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ব্যালট বাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জেতানোর সুযোগ নেই। তাই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের গায়ে হাত তোলার আগে আমার মতো প্রার্থীকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন, শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক জানুয়াদে খানসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কসহ ১২ সদস্যের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ

» বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্না

সম্প্রতি