বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্না

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে শুনানি শেষে ইসি তার আপিল মঞ্জুর করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে বাছাইয়ে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মান্না ইসিতে আপিল করেন।

পরে নির্বাচন ভবনে মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, এর আগেও তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। তার বিরোধিতা করতে গিয়ে যে ‘মবক্রেসি’ করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি মনে করেন, জেলা প্রশাসক বিচলিত হয়ে মনে করেছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোই ভালো। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না। নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মান্নার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোর্তিময় বড়–য়াসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শেষে সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘বগুড়া-২ আসনে রিটার্নিং অফিসার খুবই খেলো কারণে নাগরিক ঐক্যের সভাপতির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল দুটি গ্রাউন্ডে, মামলার তথ্য গোপন ও সিগনেচারের তারিখে গরমিল দেখিয়ে। আসলে ব্যাপার হচ্ছে তার নামে দুটি মামলা ছিল, সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে কাজেই উনি অভিযুক্ত কখনোই হননি। আরেকটা হচ্ছে, এফিডেভিটে একটা সিগনেচার দুটা পাতায় দুইটা ডেটের একটা গরমিল হয়েছে। এই ধরনের ছোটখাট মামুলি ভুল নির্বাচন কমিশনের গ্রহণ করে নিতে হয়। আপিল মঞ্জুর হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে মাহমুদুর মান্না বগুড়া-২ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী।’

ডাকসুর দু’বারের ভিপি, আওয়ামী লীগের এক সময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তার সংসদে যাওয়া হয়নি। এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মিত্র দলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ইতোমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে লড়তে পারবেন তিনি।

এরও আগে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত ২৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল তা কেটে যায়।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কসহ ১২ সদস্যের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ

সম্প্রতি