নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দুইদিনের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দুই প্রার্থী। তাদের একজন ছিলেন বিএনপিরই বিদ্রোহী এবং অন্যজন গণঅধিকার পরিষদের।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আরও চারজন প্রার্থী আছেন। তবে ভোটের মাঠে তাদের ততটা প্রভাব না থাকায় অনেকটা নির্ভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। অনেকের ধারণা, তিনি ‘সহজ জয়ের পথেই’ হাঁটছেন।
স্থানীয় ভোটার, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ভোটের মাঠে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দিপু ভূঁইয়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন দলের বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, সিপিবির মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি দিপু ভূঁইয়া শুরু থেকেই সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং রূপগঞ্জে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে দলীয় বিভাজন তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং যুবদল নেতা দুলাল হোসেনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শুরুতে তার নির্বাচনী পথ মসৃণ ছিল না।
মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কাজী মনির প্রথমদিকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন সক্রিয় ছিলেন না। এতে মাঠপর্যায়ে বিএনপির ঐক্যে কিছুটা ভাটা পড়ে। আর দলীয় ‘শৃঙ্খলা ভেঙে’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হন দুলাল হোসেন। তুলনামূলক কম প্রভাবশালী হলেও ভোটের মাঠে তিনি দিপুর প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে দেখা দেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন আলোচনায় ছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিপু এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। তিনি কাজী মনিরের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে তাকে ও তার অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার দিপুকে সমর্থন জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানের ঘোষণা দেন। পরদিন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিনও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে ভোটের মাঠে দিপুর অবস্থান আরও শক্ত হয়।
বাকি চার প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নাম আলোচনায় থাকলেও রূপগঞ্জে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের শক্তি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সবমিলিয়ে দলীয় বিভাজন কাটিয়ে ওঠা, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরে দাঁড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বর্তমানে স্পষ্টভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অর্থ-বাণিজ্য: আবার বাড়লো সোনার দাম
অর্থ-বাণিজ্য: সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ভারত