image
শনিবার দিনাজপুরে দলের কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান -সংবাদ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ ও ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধ করা হবে: তারেক রহমান

প্রতিনিধি, দিনাজপুর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুর জেলাসহ দেশের যে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ জীবনযাপনের জন্য বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছেন, এই ক্ষুদ্র ঋণও আমরা সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করবো। এই ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা আমার এলাকার মানুষ বহন করুক আমরা আর তা চাই না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেল সোয়া ৩টায় দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাড. কামরুজ্জামান প্রমুখ। জনসভায় দিনাজপুরের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি দিনাজপুর জেলাসহ দেশের সব কৃষককে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেবো। সেই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ পৌঁছে যাবে। যাতে করে তাদের অন্যের পেছনে ঘুরতে না হয়। এর ফলে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত হবে।

ধর্মীয় গুরু সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যাদের অবদান আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। এ মানুষগুলো আমাদের মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম, খতিবসহ অন্য ধর্মের যেসব ধর্মগুরু আছেন, সে মানুষগুলো আমাদের বিভিন্ন সময় ভালো পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় মানুষদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে সম্মানির ব্যবস্থা করবো।

তারেক রহমান আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অর্থাৎ ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, ধানের শীষ চেষ্টা করেছে এলাকার উন্নয়ন করতে। স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণের চেষ্টা করেছে। ধানের শীষ চেষ্টা করেছে কীভাবে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এ দিনাজপুর অঞ্চলকে সমগ্র বাংলাদেশ জানে, কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে। আমরা চাই এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত শিল্প গড়ে তুলতে। দিনাজপুরের আম, লিচু ও কাটারিভোগ চাল দেশসহ জগৎ বিখ্যাত। তাই আম-লিচু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুরসহ এ বিভাগের মানুষের একটা প্রাণের দাবি আছে। সেটি হলো তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা। ১২ তারিখের ভোটে ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ হবে যতদ্রুত সম্ভব এ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা। যেন এ এলাকা আবার সবুজ, শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে।’

তারেক রহমান জনগনের উদ্দেশে রসিকতা করে বলেন, অনেক বছর পরে নানি বাড়ি (দিনাজপুর) এসেছি। নাতি এলো নানি বাড়িতে কিন্তু আপনারা নাতিকে তো কিছু খাওয়ালেন না, এইটা কেমন হলো! নাতিকে কী দেবেন? ভোট দেবেন? কীসে ভোট দেবেন? ধানের শীষে ভোট দেবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের মালিকদের (জনগণ) সামনে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই। ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব।’ তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরবর্তী কাজ হবে, দেশ পুনর্গঠন করা।

সব ধর্মের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। সেটি হোক আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

এর আগে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা হতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন-পতাকা হাতে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে দুপুরের পর পরই জনসভাস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে জনসভাস্থলে উপস্থিত হলে একদল সুসজ্জিত আদিবাসী নারী-পুরুষ নৃত্যের তালে তালে এবং আদিবাসী সংগীত পরিবেশন করে তারেক রহমানকে বরণ করেন।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» পুরনো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে: হাসনাত

» ইনকিলাব মঞ্চে হামলার জন্য সরকার দায়ী : নাসীরুদ্দীন নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

» ঢাকায় দুই দিনে ১৪টি জনসভা করবেন তারেক রহমান

সম্প্রতি