জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন সফল করার ওপরই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সার্থকতা নির্ভর করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে ৫ আগস্টের মহান অর্জনও ব্যর্থ হয়ে যাবে। ৫ আগস্ট যেভাবে ছাত্র-জনতা সফল হয়েছিলো, ১২ ফেব্রুয়ারিতেও সেভাবেই ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনবো। ইনশাআল্লাহ, বিজয় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরব।
রবিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় এনসিপির আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের বিদ্যমান নানা নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, সরকারি স্কুল ও হাসপাতালের চরম সংকট রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রায় শতভাগ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার ৬০ শতাংশ রাস্তা তলিয়ে যায় এবং তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা জনগণের প্রাত্যহিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এলাকার উন্নয়ন থমকে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ ও ভূমিদস্যুদের প্রভাবকে দায়ী করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য চলছে। সাধারণ মানুষের জমি, জলাশয় ও খাস জমি দখল করে ভরাট করা হয়েছে। অনেক পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে নিঃস্ব করা হয়েছে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে ভূমি হারানো মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে অথবা তাদের ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা-১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যজোট কেবল ঢাকা-১১ নয়, সারা দেশেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এই জোট আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় জোটের প্রার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের আরেকটি দল বাংলাদেশকে পুনরায় সংকটে ফেলার চক্রান্ত করছে। সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে তরুণ সমাজকে ভোটকেন্দ্র পাহারায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। দখলদারিত্ব, আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক: সুদানে ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের ২৪ জন নিহত