image

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে ইশতেহার: প্রতীকের ভাষায় প্রীতম দাশের অঙ্গীকার

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শ্রীমঙ্গলে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

রোববার,(০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকালে শহরের কলেজ রোড এলাকায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন। স্থানীয় জনদুর্ভোগকে সামনে আনার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইশতেহারে প্রীতম দাশ জানান, তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। শ্রমিক, কৃষক, যুবক, নারী ও আদিবাসীসহ সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষভাবে চা-শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে আদিবাসী ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যখাতে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর, যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালু এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক গঠনের অঙ্গীকারও তুলে ধরা হয়।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সবার জন্য মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষাকেও অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি ইমাম, পুরোহিতসহ সব ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও দেন।

ইশতেহার ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলের এই ময়লার ভাগাড় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও আশপাশের বাসিন্দারা দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। জনগণের এই কষ্টকে সামনে রেখেই তিনি এখানে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন এবং নির্বাচিত হলে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক, কৃষক, আদিবাসী, যুবক ও নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতাই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রতীকী স্থান নির্বাচন করে ইশতেহার ঘোষণার এ উদ্যোগ শ্রীমঙ্গলের বাস্তব সমস্যাগুলোকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে- এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, এই অঙ্গীকার কতটা বাস্তবে রূপ পায়।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি