ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে।
বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিলে লিভ টু আপিল, শুনানি মঙ্গোলবার
নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত নেতৃত্বধীন ১১দলীয় জোটের প্রার্থী। রিটটি করেছেন একই আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ।
অন্যদিকে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব ও হলফনামায় তথ্য গোপনের’ অভিযোগ এনে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের লিভ টু আপিল করেছেন। যার শুনানির জন্য মঙ্গোলবারের, (০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে জাপা প্রার্থীর রিটটি গতকাল রোববার দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন শামীম আহমেদের আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু মোল্যা।
আজ রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মজনু মোল্যা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ (গ) সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬ (২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।’
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক দাবি করে হাইকোর্টের খারিজ করা রিটের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন ঢাকা-১১ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নাহিদ ইসলাম। সোমবার, (০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার জজ আদালত আজ এই আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে।
নাহিদ ইসলামের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। কাইয়ুমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করীম ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে দেন। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট দায়েরের পর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক। তিনি হলফনামায় এ তথ্য গোপন করেছেন, যা পরে প্রকাশ পায়। বিষয়টি সামনে রেখে নাহিদ ইসলাম রিট করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ সদস্য নির্বাচনে অনুপযুক্ত। দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং হলফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়টি উল্লেখ করেই রিটটি দায়ের করা হয়েছে।’
ঢাকা-১১ আসন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।