image
নিজের বোলিংয়ে টিম সেইফার্টের ক্যাচ মিস করে হতাশ রশিদ খান

কিউইদের ইতিহাস গড়া ম্যাচে ধরাশায়ী আফগানিস্তান

স্কোর: আফগানিস্তান ২০ ওভারে ১৮২/৬: নিউজিল্যান্ড ১৭.৫ ওভারে ১৮৩/৫

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল আফগানিস্তান। আফগানদের এই চ্যালেঞ্জ হেসেখেলেই টপকে গেছে কিউইরা। ম্যাচ জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে এমন সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

ইতিহাস বলা হচ্ছে এ কারণে যে, টি-২০ বিশ্বকাপে এর আগে ১৭০ রানের বেশি তাড়া করে কখনো জয় পায়নি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। এছাড়া টুর্নামেন্টের ইতিহাসে কিউইদের বিপক্ষেও এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

চেন্নাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ সতর্কভাবেই করেছিল আফগানিস্তান। দুই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান প্রথম পাঁচ ওভারে যোগ করেন মাত্র ৩৫ রান।

আফগানদের ধীরলয়ের ব্যাটিংয়ের ওপর লকি ফার্গুসনের জোড়া আঘাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হঠাৎই চলে যায় নিউজিল্যান্ডের হাতে। জাদরান ১২ বলে ১০ এবং গুরবাজ ২২ বলে ২৭ রান করে আউট হন।

এরপরই গুলবাদিন নাইবের ব্যাটে ঝড়ের গতিতে ছুটতে থাকে আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ড। সেদিকউল্লাহ আতালের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়ে ইনিংসে গতি ফেরান নাইব।

আতাল ২৯ রান করে ১৫তম ওভারে বিদায় হলেও দারবিশ রাসুলির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে আরও ৩৩ রান যোগ করেন গুলবাদিন।

অষ্টাদশ ওভারে রাচিন রবীন্দ্রর বলে আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন নাইব। তার ইনিংসে ছিল চারটি চারের সাথে তিনটি ছক্কার মার। পরের ওভারের প্রথম বলেই ম্যাট হেনরির শিকার হয়ে রাসুলি সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে করেন ২০ রান।

শেষদিকে মোহাম্মদ নবী (অপরাজিত ১০) ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই (১৪) মাত্র ১১ বলে ১৮ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দলীয় স্কোর ১৮০-এর ঘরে নিয়ে যান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল লকি ফার্গুসন ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এছাড়া জ্যাকব ডাফি, ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র একটি করে উইকেটের পতন ঘটান।

জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা সহজ ছিল না। নতুন বলেই আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্রকে মাঠছাড়া করেন। দুজনই বোল্ড হন। এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচে আফগানিস্তানকে ভালো অবস্থায় এনে দেন মুজিব।

কিন্তু টিম সেইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যন্ডকে ম্যাচে ফেরান। ফিলিপস ২৫ বলে ৪২ রান করে আউট হলে আফগানিস্তান কিছুটা হলেও আশায় বুক বেধেছিল। তবে সেইফার্ট ছিলেন দারুণ ছন্দে। নবীর এক ওভারে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে তিনি পৌঁছান ফিফটিতে। ওই ওভারেই আউট হওয়ার আগে ৬৫ রান করেন এই কিউই ব্যাটার।

শেষদিকে মিচেল ও মার্ক চ্যাপম্যান ধীরস্থিরভাবে ব্যাট চালিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। একটা পর্যায়ে শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ৩২ রান প্রয়োজন পড়ে ব্ল্যাক ক্যাপসদের।

কোনো চাপ ছাড়াই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ব্যাট হাতে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার আগে আফগানদের ইনিংসে দুটো ক্যাচ ধরার স্বীকৃতি হিসেবে সেরা খেলোয়াড়ের প্রাইজমানি জেতেন টিম সেইফার্ট।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি