alt

সম্পাদকীয়

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ দিতে হবে

: বৃহস্পতিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৩

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের শিক্ষা প্রক্রিয়াগুলো পাঠশালা বা সাধারণ শিক্ষামূলক পদ্ধতির বাইরে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ কর্মসূচি শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায়। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ প্রকল্প নেয়া হয়। এ বিভাগের ৮ জেলায় ২,৪৮৬টি শিখন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এ কর্মসূচির শিক্ষার্থী ছিল ৭৫ হাজার ৩৩৭ জন। কর্মসূচি চলে দুই বছর। শেষ হয় গত জুন মাসে। প্রকল্পের নিয়মে ১ম শ্রেণী থেকে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৬ মাস পড়ানো হয়। আর ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ১ বছর।

প্রকল্প অর্থ সংকটে পড়ে। গত জুন মাসে প্রকল্প শেষ হওয়ার চিঠি দেয়া হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। ৭৬ হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাঝপথে শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত দরিদ্র পরিবারের। অনেকে সংসারের প্রয়োজনে ছোটবেলা থেকেই রোজগারে নামতে হয়। তখন অেেনকে ১০ বছর বয়সে বা তার আগেও ঝরে পড়ে। তারা এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও স্বাধীনতা এবং সম্পর্কের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে শেখা বা অনুভব করানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন পূরণে বিভোর ছিল; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ যদি মাঝপথেই শেষ হয়ে যায় তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে সেটা ভেবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। ঝরেপড়া দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এটার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা পড়াশোনা শেখার জন্য প্রতি বছর বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় ঠিকই কিন্তু সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ঝরে পড়ে। শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয় তারপর দারিদ্র্যের কষাঘাতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণী আর পেরোতে পারে না। ঝরে পড়ে শিক্ষাজীবন থেকে। দেশে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করে এসডিজি অর্জনে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলমান রাখতে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আর এ বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া দরকার।

শিশুরা যাতে ঝরে না পড়ে এজন্য সরকারি উদ্যোগে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা প্রকল্পের মেয়াদ চলমান রাখার দাবির বিষয়টির ওপর বিশেষভাবে নজর দেবেন- এটা আমরা আশা করব।

আমন-বীজ নিয়ে প্রতারণা

অগ্নিকা-ের ঝুঁকি কমাতে চাই উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা

খেজুর গাছ গবেষণা ক্ষেত্রের বিপর্যয় : রক্ষার পথে পদক্ষেপ জরুরি

ইজতেমা ময়দানে সংঘাত : কেন ব্যর্থ হলো সমঝোতা প্রচেষ্টা?

ফেরি চালু করে জনদুর্ভোগ দূর করুন

শীতের তীব্রতা বাড়ছে, বাড়ছে রোগের প্রকোপ

ময়ূর নদ রক্ষায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিন

কেঁচো সার : কৃষকের ভাগ্য বদলানোর শক্তিশালী উপকরণ

ফসলি জমিতে কেন চালকল

মহান বিজয় দিবস

মহান বিজয় দিবস

শীতে অসহায়দের পাশে দাঁড়ান

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট : কবে মিলবে স্বস্তি?

সচেতনতামূলক পদক্ষেপে বাল্যবিবাহ নিরোধ : আশা এবং করণীয়

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

কেশবপুরে জলাবদ্ধতা : বোরো আবাদের পথে বাধা দূর করুন

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৪ : প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জ

সেতু নির্মাণে আর কত অপেক্ষা

আশ্রয়ণ প্রকল্প : দুর্নীতি, অসামঞ্জস্যতা এবং সেবা নিয়ে প্রশ্ন

সংরক্ষিত বন রক্ষায় উদাসীনতা কেন

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য : শিক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে কেন পশুর হাট

যুব ক্রিকেটের আরেকটি সাফল্য

খুলনা মেডিকেলের সংকট : ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

ভৈরব নদী বিপর্যয়ের দায় কার

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট : কারণ কী

মোরেলগঞ্জে ওয়াশব্লক নির্মাণে বিলম্ব কেন

খাল রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে

দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ঘাটতি দূর করুন

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই পাথর উত্তোলন : পরিবেশের সর্বনাশ

ট্রান্সফরমার চুরি রোধে ব্যবস্থা নিন

এলপি গ্যাসের মূল্য নিয়ে নৈরাজ্য : সমাধান কোথায়?

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ও কিছু চ্যালেঞ্জ

পাহাড়ে বৈষম্য দূর করতে শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দরকার

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় তাহলে কার?

এইডস : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

tab

সম্পাদকীয়

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ দিতে হবে

বৃহস্পতিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৩

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের শিক্ষা প্রক্রিয়াগুলো পাঠশালা বা সাধারণ শিক্ষামূলক পদ্ধতির বাইরে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ কর্মসূচি শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায়। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ প্রকল্প নেয়া হয়। এ বিভাগের ৮ জেলায় ২,৪৮৬টি শিখন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এ কর্মসূচির শিক্ষার্থী ছিল ৭৫ হাজার ৩৩৭ জন। কর্মসূচি চলে দুই বছর। শেষ হয় গত জুন মাসে। প্রকল্পের নিয়মে ১ম শ্রেণী থেকে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৬ মাস পড়ানো হয়। আর ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ১ বছর।

প্রকল্প অর্থ সংকটে পড়ে। গত জুন মাসে প্রকল্প শেষ হওয়ার চিঠি দেয়া হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। ৭৬ হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাঝপথে শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত দরিদ্র পরিবারের। অনেকে সংসারের প্রয়োজনে ছোটবেলা থেকেই রোজগারে নামতে হয়। তখন অেেনকে ১০ বছর বয়সে বা তার আগেও ঝরে পড়ে। তারা এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও স্বাধীনতা এবং সম্পর্কের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে শেখা বা অনুভব করানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন পূরণে বিভোর ছিল; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ যদি মাঝপথেই শেষ হয়ে যায় তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে সেটা ভেবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। ঝরেপড়া দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এটার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা পড়াশোনা শেখার জন্য প্রতি বছর বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় ঠিকই কিন্তু সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ঝরে পড়ে। শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয় তারপর দারিদ্র্যের কষাঘাতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণী আর পেরোতে পারে না। ঝরে পড়ে শিক্ষাজীবন থেকে। দেশে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করে এসডিজি অর্জনে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলমান রাখতে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আর এ বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া দরকার।

শিশুরা যাতে ঝরে না পড়ে এজন্য সরকারি উদ্যোগে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা প্রকল্পের মেয়াদ চলমান রাখার দাবির বিষয়টির ওপর বিশেষভাবে নজর দেবেন- এটা আমরা আশা করব।

back to top