রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা আবারও জনশৃঙ্খলা, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রশ্ন সামনে এনেছে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থান অপরাধ। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল বিচার ও জীবিকাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচির মূল দাবি ছিল হাদি হত্যাকা-ের বিচার। সরকার এ বিষয়ে তদন্তে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনি দিক পর্যালোচনার কথাও বলেছে। সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল-সংক্রান্ত দাবি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। এসব দাবি কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সাময়িকভাবে দমানো হলেও, টেকসই সমাধান আসে না।
সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিচার্জে আহত হওয়ার তথ্য উদ্বেগজনক। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকার নাকচ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন জরুরি। আন্দোলনকারীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আইন ভাঙা বা সহিংসতায় জড়ানো দাবি আদায়ের পথ হতে পারে না।
আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে এ ধরনের উত্তেজনা শুভ নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের আগে সংঘাত-সংঘর্ষ কি এড়ানো যেত না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, আর নাগরিকদের দায়িত্ব আইন মেনে দাবি উত্থাপন করা। সংলাপ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সংযমের মাধ্যমেই এ ধরনের সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব। সংঘর্ষ নয়, আলোচনাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার কোনো সংকট সমাধানের পথ।
সারাদেশ: উপকূলে কমেছে পরিযায়ী পাখির আশ্রয়স্থল