নওগাঁ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। চলতি বছরে এটিই নিপাহ ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপাহ ভাইরাসের কয়েকটি উদ্বেগজনক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি রাখে।
তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে নিপাহে আক্রান্ত সব রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগে এই মৃত্যুহার ছিল ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ভাইরাসটির বিস্তৃতি বেড়েছে। আগে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের অন্তত ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শীতকাল ছাড়াও গরমের সময় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক টেরোপাস প্রজাতির ফলাহারি বাদুড়। খেজুরের কাঁচা রস, তালের রস কিংবা বাদুড়ে খাওয়া ফলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, জাল দিয়ে রস ঢেকে রাখার মাধ্যমে নিরাপদ করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বাস্তবতা হলো, কাঁচা রস পান পুরোপুরি বন্ধ করাই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
উদ্বেগের বিষয়, এই ঝুঁকির কথা জানা থাকা সত্ত্বেও কাঁচা খেজুরের রস বিক্রি ও পান বন্ধ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রস বিক্রির প্রচারও চলমান। জনস্বাস্থ্যবিদরা এক্ষেত্রে কঠোর আইন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। বাস্তবে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।
নিপাহ ভাইরাসের প্রবণতা থেকে ধারণা করা যায় যে, এটি আর মৌসুমি বা নির্দিষ্ট এলাকার রোগ নয়। জনসচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিহার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। অবহেলা করলে নিপাহ ভাইরাস ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
রাজনীতি: ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কায় বিএনপি
অর্থ-বাণিজ্য: ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
আন্তর্জাতিক: থাইল্যান্ডে নির্বাচনে অনুতিনের রক্ষণশীল দলের জয়জয়কার