চলতি শীত মৌসুমে ভোলার উপকূলে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য মিলেছে। পাখিশুমারির ফল বলছে, একসময় যে এলাকাগুলোতে হাজারের বেশি পরিযায়ী পাখি দেখা যেত, সেখানে এখন অনেক ক্ষেত্রে এই সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েকশ বা তারও নিচে। কিছু প্রজাতির পাখির উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু পাখির সংকট নয়, উপকূলীয় পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পরিযায়ী পাখিরা শীতকালে খাদ্যের সন্ধানে সাইবেরিয়া ও তিব্বতসহ উত্তরের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের হাওর ও উপকূল অঞ্চলে আসে। ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ডুবোচরগুলো তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চর এলাকায় চাষাবাদ বৃদ্ধি, মানুষের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিকারের কারণে এই নিরাপদ আশ্রয়গুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চরগুলোতে তরমুজ চাষ বাড়ায় পাখির বিচরণক্ষেত্র আরও কমে গেছে।
পাখিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে কিছু এলাকায় পাখির সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও ভোলার পার্শ্ববর্তী চরে স্পষ্টভাবে তা কমছে। এটি পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া মানে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে পাখি শিকার বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ চরগুলোতে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ জরুরি। একই সঙ্গে কৃষিকাজ ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু চরকে পরিযায়ী পাখির জন্য আলাদা করে সংরক্ষণ করলে একদিকে পাখির আবাসস্থল রক্ষা হবে। অন্যদিকে কৃষিকাজও চলতে পারবে। স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনীতি: ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কায় বিএনপি
অর্থ-বাণিজ্য: ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
আন্তর্জাতিক: থাইল্যান্ডে নির্বাচনে অনুতিনের রক্ষণশীল দলের জয়জয়কার