নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ দেশের নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার আভাস মিললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আগের মতোই অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃদলীয় কোন্দল ও সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ ও আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের ঘোষণা থাকলেও কোনো দলই তা মানেনি। যে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গণভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অস্পষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। গণভোটের আইনগত ব্যাখ্যা, প্রচারণায় সরকারি ভূমিকা এবং অর্থায়নের স্বচ্ছতার প্রশ্নে পরিষ্কার দিকনির্দেশনার অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সাংবাদিকদের তুলে নেয়ার ঘটনা গণমাধ্যমের জন্য ভীতিকর বার্তা দেয়। এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। কোনো কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে।

সম্প্রতি