জীবনের শেষ অধ্যায়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের সংগ্রাম

যারা গড়েছেন সমাজ, তারাই আজ অবহেলিত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই চরম বাস্তবতার শিকার আমাদের সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরা। বার্ধক্য জীবনে স্বাভাবিকভাবেই বয়ে আনে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সমস্যা। একসময় যারা পরিবারের প্রধান ছিলেন, পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বৃদ্ধ বয়সে তারাই অবহেলা, একাকী এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

আধুনিক সভ্যতা ও ব্যস্ত নগর জীবনযাপনের ভিড়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের দিকে নজর দেয়ার মতো সময় হয়ে উঠেনা অনেকের। বিশেষ করে বড় শহর আর নগরীতে এমন অগণিত দৃশ্য চোখে পড়ে যে, ছেলে-মেয়েরা দারুণ সব অট্টালিকায় বসতি গড়লেও বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মায়ের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রম! যে বাবা-মায়ের অবদানের ফলে সন্তান উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছতে সক্ষম হয়, বৃদ্ধ বয়সে তারাই সন্তানের বোঝা হয়ে পড়েন। মা-বাবা তাদের জীবনের পুরোটা সময় সন্তানের পিছনে ব্যয় করলেও শেষ বয়সে কিছু সন্তান তাদের আকাক্সিক্ষত সফলতা লাভ করার ফলে মা-বাবাকে বিরক্তির চোখে দেখেন। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ায় একাধিক সন্তান থাকা সত্ত্বেও বয়োজ্যেষ্ঠ মা-বাবার ভার বহন করতে চায় না কেউই। পাশাপাশি বার্ধক্যে চিকিৎসার খরচ, শরীর ঠিক রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার প্রদান রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক ঠেকে অনেকের কাছে। ফলশ্রুতিতে বয়স্ক মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। শারীরিক কষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয় পাশবিক মানসিক যন্ত্রণা। একাকীত্ব, অবহেলা আর পর্যাপ্ত যতে্নর অভাবে একটু একটু করে ঢোলে পড়তে থাকেন মৃত্যুর কোলে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৩০% বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ একাকীত্ব ও অবহেলায় ভুগছেন। তাছাড়াও, প্রতিনিয়ত পত্রিকার শিরোনামে দেখা যায় বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম চিত্রগুলো। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, সমাজের প্রত্যেক স্তরে বয়োজ্যেষ্ঠদের করুণ পরিণতি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও যতœ প্রদর্শন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের সময়, যতœ, ভালোবাসা হয়ে ওঠে পরম ভরসার স্থল। পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও সামাজিক সংযোগ বয়োজ্যেষ্ঠদের জীবনকে করে তোলে সুখকর।

বার্ধক্যে যেন বয়োজ্যেষ্ঠরা একাকী অনুভব না করে সেদিকে সমাজের সবার সচল দৃষ্টি রাখা আমাদের কর্তব্য। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা, তাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করা, সঠিক সময়ে যত্ন নেয়া, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেয়া আমাদের আবশ্যক দায়িত্ব। পরিবার ও সমাজ সচেতন হলেই বয়োজ্যেষ্ঠদের শেষ অধ্যায়ের করুণ সংগ্রামের চিত্র আমরা বদলে দিতে সক্ষম হব। তাই, আমাদের সবার উচিত তাদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের কষ্টের পরিধি হ্রাস করা ও তাদের বাকি জীবনকে পরিবারের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটানোর সুযোগ করে দেয়া।

সুমাইয়া ইসলাম

‘মুক্ত আলোচনা’ : আরও খবর

» শিশু নির্যাতন বন্ধ হোক

» নত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা

» সরকারি হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ সংকট সমাধানের প্রয়োজন

» পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি বন্ধ করুন

» টঙ্গীতে ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

» শিশুকে গুড টাচ ও ব্যাড টাচ শেখানো জরুরি

» শিশুকে গুড টাচ ও ব্যাড টাচ শেখানো জরুরি

» ১৪ ফেব্রুয়ারি: মেঘে ঢাকা এক তারা

» ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সন্তানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

» উচ্চশিক্ষা নেতৃত্বে এক নতুন পথের দিশা: মালয়েশিয়ায় গ্যালেপ ২.০- এর অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি